বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে আন্তজেলা গরু ডাকাত চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার চাঁপাইনবাবগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন রূপগঞ্জে ৫০০ রোগীর মুখে হাসি, বিনামূল্যে চক্ষু ও ডায়াবেটিস সেবা নাচোল থানায় বৃক্ষ রোপণ করেন–পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস  গোমস্তাপুরে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন ও প্রজেক্টরে প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রদর্শন​ কওমি মাদরাসা নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদ, নিরপেক্ষ তদন্তে সত্য উদঘাটনের আহ্বান সৈয়দ শিব্বির আহমদ ( শিবলী)  সৈয়দ মাহদী আলিয়া মাদ্রাসায় মেধাবীদের মাঝে নগদ বৃত্তি বিতরণ চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাসব্যাপী ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলা শুরু ​রূপগঞ্জে বিনামূল্যে চক্ষু ও ডায়াবেটিস সেবা পেলেন ৫০০ রোগী স্কুল শিক্ষক মাসুদ রানার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ

নির্ধারিত সময়ের সাড়ে তিন বছরেও সেতুর কাজ শেষ হয়নি

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬
  • ১২০ বার পড়া হয়েছে
191

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি শামীম আনসারী:

নওগাঁর মহাদেবপুরে উপজেলার আত্রাই নদীর ওপর কালনা-বিষ্ণুপুর সেতু নির্মাণকাজ প্রায় আট বছরেও শেষ হয়নি। নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার সাড়ে প্রায় সাড়ে ৩ বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু সেতুর কাজ শেষ হয়েছে ৬৫ শতাংশ। বাকি ৩৫ শতাংশ কাজ কবে নাগাদ শেষ হবে, তা জানেন না কেউ। সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষকে প্রতিদিন পারাপার হতে হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নদী পাড়ের বাসিন্দাদের যাতায়াত সহজ করতে ও ভোগান্তি কমাতে সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ২৬২ মিটার দৈর্ঘ্য সেতুটি নির্মাণের জন্য ২০১৮ সালের জুন মাসে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কাজটি পায় আইসিএল নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সেতুটি নির্মাণের জন্য চুক্তিমূল্য ধরা হয় ২৯ কোটি টাকা। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে। কিন্তু মেয়াদ শেষের প্রায় সাড়ে ৩ বছর পরও কাজ শেষ হয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতু নির্মাণকাজের কোন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা যায়নি। আশেপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে কিছু নির্মাণসামগ্রী। সেতুটি নির্মাণের জন্য সাতটি স্প্যান করার কথা। সেখানে নদীর মাঝে ফাঁকা রেখে দুপাশে করা হয়েছে পাঁচটি স্প্যান। সেতুর ওপরের ছাদের কিছু অংশের কাজ শেষ হয়েছে। সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই ধীরগতিতে চলছিলো। এরমধ্যে সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ না করেই ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দীর্ঘদিন ধরে লাপাত্তা হয়ে আছে। দীর্ঘ সময়েও সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ না হওযায় উপজেলার হাতুড় ইউনিয়নের মহিষবাথান ও এনায়েতপুর ইউনিয়নের দু’পাড়ের মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই ঠিকাদার তাঁর ইচ্ছামতো কাজ করায় এখনও কাজ শেষ হয়নি। দীর্ঘদিন হলো কাজ বন্ধ করে ঠিকাদার চলে গেছে। এভাবে কাজ করলে কবে শেষ হবে, তা কেউ বলতে পারবেন না।’

সালেক মিয়া বলেন, আমাদের ভোগান্তির শেষ নেই। গ্রামের অসুস্থ বা গর্ভবতী নারীকে জরুরিভাবে উন্নত চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিতে হলে অন্তত ১২ থেকে ১৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হয়। সেতুটি হলে তাড়াতাড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে পারবো।

স্কুল শিক্ষার্থী আখি আক্তার বলেন, স্কুলে যাওয়া-আসার সময় ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হয়ে স্কুলে যেতে হয়। আবার অনেক সময় দেরি হয়ে যায়। সেতুটি দ্রুত হলে আমরা সঠিক সময়ে ক্লাসে যেতে পারতাম।

মহিষবাতান এলাকার কৃষক করিম উদ্দিন বলেন, ‘কয়েক বছর আগে কাজ শুরু করা হয়। কিন্তু শেষ হওয়ার কোনো নাম নেই। সেতুটির কাজ দ্রুত শেষ হলে আশেপাশের কয়েক গ্রামের উৎপাদিত ফসল সহজেই বাজারে নিয়ে বিক্রি করা যাবে।’

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ইঞ্জিনিয়ার সিহাব হোসেন বলেন, ‘আর্থিক সমস্যার কারণে সেতু নির্মাণ কাজ বন্ধ আছে। কাজের মেয়াদ শেষ হওযায় পুনরায় মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর।’

উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সৈকত দাস বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে বারবার তাগাদা দিয়েও কাজে গতি আসেনি। নির্ধারিত মেয়াদের অনেক সময় পার হয়ে গেছে। প্রয়োজনে নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে ব্রিজটি চলাচলের উপযোগী করা হবে।’

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews