বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ০১:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে আন্তজেলা গরু ডাকাত চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার চাঁপাইনবাবগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন রূপগঞ্জে ৫০০ রোগীর মুখে হাসি, বিনামূল্যে চক্ষু ও ডায়াবেটিস সেবা নাচোল থানায় বৃক্ষ রোপণ করেন–পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস  গোমস্তাপুরে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন ও প্রজেক্টরে প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রদর্শন​ কওমি মাদরাসা নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদ, নিরপেক্ষ তদন্তে সত্য উদঘাটনের আহ্বান সৈয়দ শিব্বির আহমদ ( শিবলী)  সৈয়দ মাহদী আলিয়া মাদ্রাসায় মেধাবীদের মাঝে নগদ বৃত্তি বিতরণ চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাসব্যাপী ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলা শুরু ​রূপগঞ্জে বিনামূল্যে চক্ষু ও ডায়াবেটিস সেবা পেলেন ৫০০ রোগী স্কুল শিক্ষক মাসুদ রানার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ

নওগাঁয় পুকুর খননের নামে মাটি বিক্রির মহোৎসব; লাগাম টানতে পারছে না প্রশাসন

  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬
  • ১৩৬ বার পড়া হয়েছে
243

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি শামীম আনসারী:

নওগাঁ জেলাজুড়ে পুকুর খননের নামে চলেছে মাটি বিক্রির মহোৎসব। এসব কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে দিনে ও রাতে প্রশাসনিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে আর্থিক দন্ড প্রদানের পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়। কিন্তু তারপরও এ চক্রের বিরুদ্ধে লাগাম টানা সম্ভব হচ্ছে না। প্রশাসন চলে আসার পর পুণরায় চলছে ভেকু (স্ক্যাবিটর) দিয়ে মাটি কাটা। আর মাটি পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টরের চাকায় সড়কের অবস্থা বেহলা হয়ে পড়ছে। প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ম্যানেজ করেই এসব কাজ করতে আড়ালে ইন্ধন যোগানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

নদী-নালা, খাল-বিল ও জলাশয়ের পানি শুকিয়ে গেছে। জেলার ১১টি উপজেলার প্রায় সবকটি উপজেলাতে একই দৃশ্য। আর এ সুযোগে মাটি ব্যবসায়ির চক্ররা ফসলি জমি সহ অপেক্ষাকৃত নিচু জমির মাটি কেটে ইটভাটাগুলোতে সরবরাহ করছে। মাটি ব্যবসায়ির জমি মালিকদের বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে ফসলি জমি এবং পুকুর সংস্কার করে দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হয়। তাদের প্রলোভনে পরে কোন টাকা ছাড়াই পুকুর খনন হয়ে যায়।

 

আর মাটিবাহি ট্রাক্টর ও ড্রাম ট্রাকের চলাচলের কারণে নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ রাস্তা ও সড়ক। এছাড়া পাঁকা সড়কের উপর মাটি পরিবহনের সময় মাটি পড়ে থাকার কারণে প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে ভেকু মেশিনের ব্যাটারী জব্দ করা কিংবা আর্থিক দন্ড প্রদান করা হচ্ছে। কোন ভাবেই তাদের কর্মকান্ডের লাগাম টানতে পারছে না। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলেও বন্ধ করা যাচ্ছে না এমন অবৈধ কাজ।

 

জেলার রানীনগর উপজেলার তেবাড়িয়া গ্রামের আলহাজ্ব ইব্রাহিম প্রামাণিকের ছেলে জাহাঙ্গির আলম বকুল পুলিশ প্রশাসন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন ধরে পুকুর খননের নামে মাটি বিক্রির ব্যবসা করে আসছেন। নিজের ১০০ বিঘার নাহার মৎস্য খামার প্রকল্পের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রশাসনের কোন ধরণের অনুমতি ছাড়াই পুকুর সংস্কারের নামে মাটি বিক্রির লোভে পুকুর গভীর করে খনন করছেন। এ প্রকল্পের প্রায় ৩০বিঘা জমির পুকুর প্রায় ৭ ফুট গভীর করে খনন করে ইতোমধ্যে মাটি বিক্রি শেষ করেছেন। রাতের আঁধার ভেকু (স্ক্যাবিটর) দিয়ে মাটি কেটে ২০-২৫টি ট্রাক্টর করে মাটি পরিবহনের কাজ করছেন। আবারো সেই গভীর অংশ থেকে পুণরায় মাটি কেটে বিক্রি শুরু করছেন। নিজের ভাইদের অংশ কিনে নিয়েও মাটি ভর্তি প্রতি ট্রাক্টর ৭০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করছেন।

 

এ বিষয়ে জাহাঙ্গির আলম বকুল বলেন- অনুমতি নিয়েই পুকুর সংস্কারের কাজ করা হচ্ছে। তবে কার অনুমতি নিয়ে কাজ করছেন সেই বিষয়ে কোন উত্তর তিনি দিতে পারেননি। এসিল্যান্ড (ভূমি) স্যার নিষেধ করার পর বর্তমানে পুকুর খনন কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

রানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রাকিবুল হাসান বলেন- অবৈধ পুকুর খনন এবং মাটি বিক্রি কোন ভাবেই প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। মাটি ব্যবসায়িরা রাতের আঁধারে মাটি কাটার কাজ করছে। এমনবি মধ্যরাতেও খবর পেলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ভেকুর বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হচ্ছে। আবার যেখানে মাটি খননের সঙ্গে কাউকে পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা আদায়ের ধারা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

 

তিনি বলেন- ভূমি সংক্রান্ত নতুন আইন অনুসারে কেউ যদি ফসলী জমি মাটি দিয়ে ভরাট করতে চান সেই কাজের জন্যও প্রশাসনের অনুমতি লাগবে। তাই যারা অনুমতি ছাড়াই ফসলী জমি মাটি দিয়ে ভরাট করছেন দ্রুতই তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

মহাদেবপুর উপজেলার ঘাসিয়ারা গ্রামের দুই ফসলি জমিতে খননকৃত পুকুর ও জমির মালিক বিপুল চন্দ্র মন্ডল বলেন, উপজেলা শহরের মাটি ব্যবসায়ি আব্দুর রহিম ও বিকাশ নামে দুই ব্যক্তি আমার জমিতে পুকুর খনন করছে। তবে আমার কোন টাকা খরচ হচ্ছে না। মাটি ব্যবসায়িরা জমির মাটি কেটে বিক্রি করে দিচ্ছে। তবে তারা জমির শ্রেণী পরিবর্তনের দায়িত্ব নিলেও এপর্যন্ত শ্রেণী পরিবর্তন করা হয়নি।

মাটি ব্যবসায়ি বিপুল চন্দ্র মন্ডল বলেন- জমির শ্রেণী পরিবর্তন করার জন্য উপজেলা প্রশাসন বরাবর একটি আবেদন করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোন কার্যক্রম হয়নি।

 

এদিকে, জেলার মান্দায় উপজেলার পরানপুর ইউনিয়নের কটকটিতলা এলাকায় অবৈধভাবে পুকুর খনন ও মাটি বিক্রি করছিলেন ইউপি মেম্বার ও মাটি ব্যবসায়ি অমর সজিব। সেখানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিল নওরোজ বৈশাখ অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করাসহ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

 

নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন- প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলাজুড়ে কঠোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ভ্রাম্যমানসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews