রূপগঞ্জে ‘জিন তাড়ানোর’ নামে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের নির্যাতন: দুই প্রতিষ্ঠানের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
প্রকাশিত:
মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬
৩৩
বার পড়া হয়েছে
রূপগঞ্জে ‘জিন তাড়ানোর’ নামে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের নির্যাতন: দুই প্রতিষ্ঠানের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
মোঃ সাইফুল ইসলাম, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) উপজেলা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ‘জিন তাড়ানোর’ নামে একটি মাদ্রাসার বেশ কয়েকজন অসুস্থ শিক্ষার্থীর ওপর বেত্রাঘাত ও মানসিক নির্যাতনসহ অপচিকিৎসা করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, ঘটনার পেছনে দুটি মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও পাল্টাপাল্টি ব্লেম-গেমের চিত্র ফুটে উঠেছে। ঘটনার প্রেক্ষাপট উপজেলার গোলাকান্দাইল ৫নং ক্যানেল এলাকায় অবস্থিত ‘তালিমুল কুরআন মহিলা মাদ্রাসা’। এই মাদ্রাসার মোট ২৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১২৫ জনই ছাত্রী। এই মাদ্রাসার ঠিক পাশেই রয়েছে ‘নূরে মদিনা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’ নামের আরেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। গত পাঁচ দিন ধরে তালিমুল কুরআন মহিলা মাদ্রাসার ১৩-১৪ জন ছাত্রী হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। অভিযোগ উঠেছে, শিক্ষার্থীদের সুস্থ করার বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ না নিয়ে, মাদ্রাসার শিক্ষকরা তাদের ওপর ‘জিন ভর করেছে’ বলে দাবি করেন। এরপর জিন তাড়ানোর নামে চলে বেত্রাঘাত, মানসিক অত্যাচার ও নানা ধরনের কুসংস্কারাচ্ছন্ন অপচিকিৎসা। কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ঘটনাটি কেবল অপচিকিৎসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, রূপ নিয়েছে দুই মাদ্রাসার দ্বন্দ্বে: তালিমুল কুরআন মাদ্রাসার দাবি মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা খালেদ হাসান মোরসাদেক অভিযোগ করেন, পার্শ্ববর্তী নূরে মদিনা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল জুবায়ের আহমেদ কোনো কবিরাজের মাধ্যমে তাদের মাদ্রাসার ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে ছাত্রীদের ওপর ‘জিন চালান’ করেছেন। নূরে মদিনা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার পাল্টা জবাব: অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে প্রিন্সিপাল জুবায়ের আহমেদ বলেন, — "শিক্ষার্থীদের ওপর জিন চালানের বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও কাল্পনিক। তারা চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে আমার ওপর দোষ চাপাচ্ছেন।" চিকিৎসা বিজ্ঞান ও প্রশাসনের বক্তব্য কুসংস্কারের বিপরীতে এই বিষয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং স্থানীয় প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে: মেডিকেল সায়েন্স যা বলছে: উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাদল কুমার শাহা জানান: "মেডিকেল সায়েন্সে ‘জিন’ বলতে কিছু নেই। কোনো শিশু যদি অসুস্থ হয় বা তার আচরণে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দেয়, তবে বুঝতে হবে এটি মানসিক সমস্যা হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ওঝা বা কবিরাজের কাছে না গিয়ে দ্রুত বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। সঠিক চিকিৎসায় এরা দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে।" প্রশাসনের আশ্বাস: বিষয়টি আমলে নিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের এই ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
87
মোঃ সাইফুল ইসলাম, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) উপজেলা
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ‘জিন তাড়ানোর’ নামে একটি মাদ্রাসার বেশ কয়েকজন অসুস্থ শিক্ষার্থীর ওপর বেত্রাঘাত ও মানসিক নির্যাতনসহ অপচিকিৎসা করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, ঘটনার পেছনে দুটি মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও পাল্টাপাল্টি ব্লেম-গেমের চিত্র ফুটে উঠেছে। ঘটনার প্রেক্ষাপট
উপজেলার গোলাকান্দাইল ৫নং ক্যানেল এলাকায় অবস্থিত ‘তালিমুল কুরআন মহিলা মাদ্রাসা’। এই মাদ্রাসার মোট ২৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১২৫ জনই ছাত্রী। এই মাদ্রাসার ঠিক পাশেই রয়েছে ‘নূরে মদিনা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’ নামের আরেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
গত পাঁচ দিন ধরে তালিমুল কুরআন মহিলা মাদ্রাসার ১৩-১৪ জন ছাত্রী হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। অভিযোগ উঠেছে, শিক্ষার্থীদের সুস্থ করার বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ না নিয়ে, মাদ্রাসার শিক্ষকরা তাদের ওপর ‘জিন ভর করেছে’ বলে দাবি করেন। এরপর জিন তাড়ানোর নামে চলে বেত্রাঘাত, মানসিক অত্যাচার ও নানা ধরনের কুসংস্কারাচ্ছন্ন অপচিকিৎসা।
কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ঘটনাটি কেবল অপচিকিৎসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, রূপ নিয়েছে দুই মাদ্রাসার দ্বন্দ্বে:
তালিমুল কুরআন মাদ্রাসার দাবি মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা খালেদ হাসান মোরসাদেক অভিযোগ করেন, পার্শ্ববর্তী নূরে মদিনা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল জুবায়ের আহমেদ কোনো কবিরাজের মাধ্যমে তাদের মাদ্রাসার ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে ছাত্রীদের ওপর ‘জিন চালান’ করেছেন।
নূরে মদিনা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার পাল্টা জবাব:
অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে প্রিন্সিপাল জুবায়ের আহমেদ বলেন, —
”শিক্ষার্থীদের ওপর জিন চালানের বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও কাল্পনিক। তারা চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে আমার ওপর দোষ চাপাচ্ছেন।”
চিকিৎসা বিজ্ঞান ও প্রশাসনের বক্তব্য কুসংস্কারের বিপরীতে এই বিষয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং স্থানীয় প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে:
মেডিকেল সায়েন্স যা বলছে:
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাদল কুমার শাহা জানান:
”মেডিকেল সায়েন্সে ‘জিন’ বলতে কিছু নেই। কোনো শিশু যদি অসুস্থ হয় বা তার আচরণে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দেয়, তবে বুঝতে হবে এটি মানসিক সমস্যা হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ওঝা বা কবিরাজের কাছে না গিয়ে দ্রুত বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। সঠিক চিকিৎসায় এরা দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে।”
প্রশাসনের আশ্বাস:
বিষয়টি আমলে নিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের এই ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।