বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ০২:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাসব্যাপী ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলা শুরু ​রূপগঞ্জে বিনামূল্যে চক্ষু ও ডায়াবেটিস সেবা পেলেন ৫০০ রোগী স্কুল শিক্ষক মাসুদ রানার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ লালপুরে টিনশেডের তিন কক্ষে চলছে অর্জুনপুর-বরমহাটি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম ডাবের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে হাতিয়ে নিতেন মালামাল, গ্রেফতার ৪ রথযাত্রা উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা পুলিশের মতবিনিময় সভা তানোরে পুলিশের অভিযানে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী গাজাসহ গ্রেফতার; এলাকায় স্বস্তি গোমস্তাপুরে শতভাগ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সম্পন্নের লক্ষ্যে টাস্ক ফোর্স কমিটির সভা অনুষ্ঠিত চাঁদাবাজমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও দখলবাজমুক্ত কাঁচপুর ইউনিয়ন গড়ে তুলবো—চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আল-আমিন চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশের অভিযানে ৭ হাজার ইয়াবাসহ মোটরসাইকেল আটক

নওগাঁয় কুরবানি হাটে পশুর সরবরাহ বাড়লেও বেচাকেনা কম

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬
  • ৬৮ বার পড়া হয়েছে
119

নওগাঁ জেলা শামীম আনসারী প্রতিনিধি: 

কুরবানির ঈদের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে নওগাঁর হাটগুলোতে পশুর সরবরাহ বাড়ছে। তবে সরবরাহ বাড়লেও ক্রেতাদের আনাগোনা কম থাকায় বেচাকেনা কিছুটা কম। ক্রেতারা বলছেন বিগত বছরের তুলনায় বেড়েছে দাম। তারপরও কুরবানির জন্য দরদাম করে কিনছেন ক্রেতারা। এছাড়া দানাদার খাবারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে পশুর দাম।

 

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্যমতে- জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৩৯ হাজার খামার রয়েছে। যেখানে প্রায় ৮ লাখ গবাদিপশু লালন-পালন করা হয়েছে। এরমধ্যে জেলার চাহিদা রয়েছে অন্তত ৩ লাখ ৮৭ হাজার। উদ্বৃদ্ধ গবাদিপশু দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হবে। জেলায় ছোট বড় মিলিয়ে অন্তত ৪০ টি পশুর হাট রয়েছে।

 

 

 

শনিবার জেলার মহাদেবপুর উপজেলার মহাদেবপুর সদর হাট, রোববার চকগৌরি হাট ও সোমবার জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার ছাতড়া হাট ঘুরে দেখা যায়- হাটগুলোতে পশুর সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও ক্রেতাদের উপস্থিতি কম। তবে বড় গরুর তুলনায় মাঝারি আকারের গরুর সরবরাহ বেশি এবং ক্রেতাদের কাছে চাহিদা বেশি। এছাড়া দানাদার পশু খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় পশুর দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

হাটগুলোতে ছোট এবং মাঝারি আকারে গরুর চাহিদা বেশি ছিল। বড় গরু (ষাঁড়) ১ লাখ ৩০ হাজার ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ও মাঝারি গরু ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। আর বকনা গরু ৫০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা। তবে দাম কম হওয়ায় বকনা গরুর চাহিদা বেশ।

 

 

 

কৃষিপ্রধান জেলা হওয়ায় ইরি-বোরো ধান কাটা-মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন মানুষ। কৃষিকাজে ব্যস্ত থাকায় হাটে ক্রেতাদের আনাগোনা কম। তারপরও কুরবানির জন্য দরদাম করে কিনছেন ক্রেতারা।

 

 

 

খামারিরা জানান- প্রাকৃতিক উপায়ে আটা, ভুষি, খৈল, খড় ও ঘাস দিয়ে গরু মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে। তবে প্রাকৃতিক ভাবে পশু মোটাতাজাকরণের সকল পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে খরচ। দানাদার খাবার প্রতি বস্তায় প্রকারভেদে ৩০০-৫০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। হাটে নিয়ে আসার পরও কাঙ্খিত দাম পাচ্ছে না বলে জানান তারা।

 

 

 

নওগাঁ শহরের মাষ্টাপাড়া থেকে চকগৌরি হাটে গরু কিনতে এসেছেন মনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন- হাটে পছন্দমতো ষাঁড় উঠেনি। কয়েকটা উঠেছে দামও বেশি চাচ্ছে। যেখানে দাম হবে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। সেখানে গরুর দাম রাখছে দেড় লাখ টাকা। যেহেতু বেচাকেনা কম খামারিরা দামও বেশি চাচ্ছে। আর ২-১ হাট দেখে গরু কিনতে হবে।

 

 

 

মহাদেবপুর উপজেলার খোদ্দনারায়পুর গ্রামের খামারি ‍উজ্জল হোসেন বলেন- কুরবানিকে কেন্দ্র করে ৫টি বকনা গরু লালন-পালন করেছি। তবে ঈদের প্রায় দুইমাস আগ থেকে দানাদার খাবারের দাম বস্তাপ্রতি ৩০০-৫০০ টাকা বাড়তি কিনতে হয়েছে। এসময় এসে ব্যবসায়িরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে দেয়। যার কারণে গরুর দামও বেড়ে যায়।

 

ফড়িয়া ব্যবসায়ি আফসার আলী বলেন, খামার থেকে একটি ষাড় কিনেছি ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা দিয়ে। হাটে বিক্রি করতে এসে ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকার ওপর কেউ দাম বলছে না। কারণ হাটে গরুর সরবরাহ বেশি হয়েছে। কিন্তু ক্রেতা কম থাকায় দাম কম বলছে। লোকসান করে তো আর বিক্রি করা যাবে না। অন্য হাট দেখতে হবে।

 

 

 

চকগৌরি হাটের ইজারাদার আশিক আহমেদ সুমন বলেন, এ বছর চকগৌরি এ হাটে বড় গরুর সরবরাহ কিছুটা কম রয়েছে। যেহেতু কৃষি প্রধান জেলা ধান কাটান মড়াইয়ে সবাই ব্যস্ত। পশু সরবরাহ হলেও ক্রেতা সমাগম কম হওয়ায় বেচাকেনা কম। তারপরও প্রায় দেড় কোটি টাকার পশু বেচাকেনা হয়। আসা করা যায় সামনের হাটে পশুর সরবরাহ বাড়বে এবং বেচাকেনা বেশি হবে।

 

 

 

নওগাঁ জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের জেলা ট্রেনিং অফিসার ডাঃ গৌরাংগ কুমার তালুকদার বলেন- পশু লালন-পালনে খরচ কমাতে খামারিদের দানাদার খাবার কমিয়ে প্রাকৃতিক খাবারের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে মাংসের উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে পশু সুস্থ থাকার পাশাপাশি ক্রেতাদের কাছে আগ্রহ বাড়বে। এতে পশু লালন-পালনে উৎপাদন খরচ কমে আসবে এবং লাভবান হবেন খামারি।#

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews