1. LIVE@dcbtv24.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.dcbtv24.com : DCB TV24 :
রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৫:৩৬ অপরাহ্ন

মৌলভীবাজার প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে সরকারি ওষুধের তীব্র সংকট, ক্ষুব্ধ খামারিরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক 
  • প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
  • ৩৬ বার পড়া হয়েছে
75

নিজস্ব প্রতিবেদক 

মৌলভীবাজার জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে গবাদি পশু ও পোষা প্রাণীর প্রয়োজনীয় সরকারি ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিনামূল্যে ওষুধ পাওয়ার কথা থাকলেও তা না মেলায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় খামারিরা। চিকিৎসা নিতে এসে ওষুধ না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সেবাগ্রহীতারা। অন্যদিকে, হাসপাতালের ভেতরে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের তড়িঘড়ি করে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

 

সরেজমিনে মৌলভীবাজার জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের দেওয়ালে লেখা রয়েছে—“দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারুণ্যের একতা: গড়বে আগামীর শুদ্ধতা”। তবে সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, হাসপাতালের বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। সেখানে প্রয়োজনীয় ওষুধের তীব্র সংকট চলছে, যার ফলে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা।

 

হাসপাতালে আসা একাধিক খামারি ও ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ইনজেকশন ও বিভিন্ন ওষুধের নাম লিখে দিলেও হাসপাতালের স্টোরে তা পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে বাইরের ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে।

 

গরুর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসার পর চিকিৎসকরা কেবল দুটি ইনজেকশন দিয়েছেন। বাকি সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে এসেও যদি ওষুধ না পাওয়া যায়, তবে আমরা সাধারণ মানুষ কোথায় যাব?”

 

গবাদি পশুর ‘লাম্পি স্কিন’ রোগের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসার পর চিকিৎসকেরা রোগ শনাক্ত করে ইনজেকশন দিচ্ছেন। তবে পরবর্তী ৬ থেকে ১৪ দিনের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ লিখে দিয়ে তা বাইরে থেকে কিনে আনার পরামর্শ দিচ্ছেন।

 

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি হাসপাতালের ভেতরে প্রায়ই বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের আনাগোনা থাকে, যা হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ ও সেবা প্রদানকে বিঘ্নিত করে। সরেজমিনে পরিদর্শনকালে হাসপাতালে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে বেশ কয়েকজন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি দ্রুত সেখান থেকে চলে যান। সাধারণ মানুষের দাবি, সরকারি হাসপাতালের এই ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।

 

ওষুধ সংকটের বিষয়ে হাসপাতালের কম্পাউন্ডার সুশিপ্তা দাশ জানান:

 

“আমাদের হাসপাতালে বর্তমানে যেসব ওষুধ ও ইনজেকশন মজুত রয়েছে, তা দিয়েই আমরা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে কোনো ওষুধ যদি স্টকে না থাকে, কেবল তখনই রোগীকে বাইরের ফার্মেসি থেকে সেটি কেনার পরামর্শ দেওয়া হয়।”

 

হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের উপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিনিধিদের হাসপাতালে আসার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা রয়েছে।

 

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ রমা পদ দে বলেন:

 

“হাসপাতালে যেসব ওষুধ সংগ্রহে থাকে, সেগুলো ভেটেরিনারি সার্জন ও কম্পাউন্ডারদের মাধ্যমে রেজিস্টার মেইনটেইন করে বিতরণ করা হয়। সরকারিভাবে বরাদ্দ পাওয়া সব ওষুধই বিনামূল্যে রোগীদের দেওয়া হচ্ছে।”

 

অন্যদিকে, ওষুধ সংকটের অভিযোগ অস্বীকার করে ডাঃ মোঃ আশরাফুল আলম খান জানান:

 

“বছরে মাত্র একবার জেলা থেকে সরকারি ওষুধের সরবরাহ আসে। আমাদের কাছে মজুত থাকা ওষুধগুলো নিয়মিত রোগীদের দেওয়া হচ্ছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ শেষ হয়ে গেলে রোগীর প্রয়োজনে তা বাইরে থেকে কিনতে বলা হয়।”

 

পাশাপাশি, হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা চিকিৎসকদের প্রেসক্রিপশন পর্যবেক্ষণ বা প্রভাবিত করছেন কি না—এমন অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

 

স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী খামারিদের দাবি, দ্রুত এই সরকারি হাসপাতালের ওষুধ সংকট নিরসন করে সাধারণ মানুষের জন্য নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হোক।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট