অনলাইন ডেস্ক বাংলাদেশের রাজনীতির মঞ্চে উত্তরাধিকারের গণ্ডি পেরিয়ে নিজেকে এক লড়াকু ও আধুনিক নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ইশরাক হোসেন। ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেয়ে তিনি এখন দেশের তরুণতম নীতিনির্ধারকদের একজন। তবে সংসদ সদস্য বা ‘প্রতিমন্ত্রী’ হিসেবে অভিষেক হলেও ইশরাকের লক্ষ্য এখনও সেই অমীমাংসিত ‘নগর ভবন’। ২০২০ সালের বিতর্কিত সিটি নির্বাচনের স্মৃতি আর দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর নতুন করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়ে তিনি রাজনীতির ময়দানে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছেন। রাজপথের জেল-জুলুম পেরিয়ে আসা এই তরুণ নেতার লক্ষ্য এখন জাতীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে সরাসরি তিলোত্তমা ঢাকা গড়ার কারিগর হওয়া। রাজনৈতিক পরিচয় ও উত্থান ১৯৮৭ সালের ৫ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের রাজনীতির হাতেখড়ি শৈশবেই ঘরোয়া আবহে। তিনি অবিভক্ত ঢাকার সাবেক সফল মেয়র এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার জ্যেষ্ঠ পুত্র। রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে উঠলেও ২০১৯ সালের আগে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না খোকাপুত্র। ২০১৯ সালের নভেম্বরে বাবার মৃত্যুর পর রাজনীতির মাঠে মুখ চেনান তিনি। ‘ফুলটাইম’ রাজনীতিক হিসেবে বাবার রেখে যাওয়া জায়গায় কাজ শুরু করেন ইশরাক হোসেন। তবে কেবল বাবার পরিচয় নয়, বরং শিক্ষিত, মার্জিত এবং স্পষ্টবাদী তরুণ নেতা হিসেবে খুব দ্রুতই তিনি বিএনপির তৃণমূল ও সাধারণ মানুষের নজর কাড়েন। রাজনীতিতে আসার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শুরুর দিকে ইশরাক গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে, রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হিসেবে নগরবাসী, এলাকাবাসী ও দেশবাসীর প্রতি তার একটা দায়বদ্ধতা রয়েছে। সেই দায়বদ্ধতার কারণে ছোটবেলা থেকেই তিনি রাজনীতিতে আসার বিষয়ে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন এবং সবসময় রাজনৈতিকভাবে সচেতন ছিলেন। শিক্ষাজীবন ইশরাক হোসেনের শিক্ষাজীবন অত্যন্ত উজ্জ্বল। ঢাকার স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্কলাস্টিকা থেকে ও-লেভেল এবং এ-লেভেল সম্পন্ন করার পর তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। সেখানে ইউনিভার্সিটি অব হার্টফোর্ডশায়ার থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পেশাগত জীবনে তিনি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যুক্তরাজ্যের মোটরগাড়ি শিল্পে কাজ করেছেন। ২০২০-এর সিটি নির্বাচন: রাজনীতির টার্নিং পয়েন্ট ইশরাকের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় বাঁক ছিল ২০২০ সালের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচন। সেই নির্বাচনে প্রবল প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি মাঠ ছাড়েননি, যা তাকে ‘লড়াকু’ নেতার তকমা এনে দেয়। যদিও ভোট কারচুপির অভিযোগে ফলাফলটি তখন তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল সেই ফলাফল বাতিল করে ইশরাক হোসেনকে ডিএসসিসির প্রকৃত বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করে। এপ্রিলে নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করে তাকে মেয়র ঘোষণা করে। কিন্তু আইনি জটিলতায় সে সময় তিনি শপথ নিতে পারেননি। প্রথমবার এমপি হয়েই প্রতিমন্ত্রী: এক নতুন উচ্চতা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসন থেকে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে বিজয়ী হওয়া ইশরাক হোসেনের জন্য এই জয় ছিল এক অগ্নিপরীক্ষা। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ে ৭৮ হাজার ৮৫০ ভোট পেয়ে তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবদুল মান্নানকে ২৩ হাজার ১৫৩ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। এই জয় কেবল তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা নয়, বরং পুরান ঢাকার রাজনীতির ওপর তার সুদৃঢ় নিয়ন্ত্রণকে প্রমাণ করে। নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার পরপরই এক বড় চমক হিসেবে ইশরাক হোসেন সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হয়েই মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাওয়া বিএনপির বর্তমান প্রজন্মের নেতৃত্বের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে এক বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের আধুনিকায়ন, মুক্তিযোদ্ধাদের...
32
অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশের রাজনীতির মঞ্চে উত্তরাধিকারের গণ্ডি পেরিয়ে নিজেকে এক লড়াকু ও আধুনিক নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ইশরাক হোসেন। ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেয়ে তিনি এখন দেশের তরুণতম নীতিনির্ধারকদের একজন। তবে সংসদ সদস্য বা ‘প্রতিমন্ত্রী’ হিসেবে অভিষেক হলেও ইশরাকের লক্ষ্য এখনও সেই অমীমাংসিত ‘নগর ভবন’। ২০২০ সালের বিতর্কিত সিটি নির্বাচনের স্মৃতি আর দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর নতুন করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়ে তিনি রাজনীতির ময়দানে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছেন। রাজপথের জেল-জুলুম পেরিয়ে আসা এই তরুণ নেতার লক্ষ্য এখন জাতীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে সরাসরি তিলোত্তমা ঢাকা গড়ার কারিগর হওয়া।
রাজনৈতিক পরিচয় ও উত্থান
১৯৮৭ সালের ৫ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের রাজনীতির হাতেখড়ি শৈশবেই ঘরোয়া আবহে। তিনি অবিভক্ত ঢাকার সাবেক সফল মেয়র এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার জ্যেষ্ঠ পুত্র। রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে উঠলেও ২০১৯ সালের আগে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না খোকাপুত্র। ২০১৯ সালের নভেম্বরে বাবার মৃত্যুর পর রাজনীতির মাঠে মুখ চেনান তিনি। ‘ফুলটাইম’ রাজনীতিক হিসেবে বাবার রেখে যাওয়া জায়গায় কাজ শুরু করেন ইশরাক হোসেন। তবে কেবল বাবার পরিচয় নয়, বরং শিক্ষিত, মার্জিত এবং স্পষ্টবাদী তরুণ নেতা হিসেবে খুব দ্রুতই তিনি বিএনপির তৃণমূল ও সাধারণ মানুষের নজর কাড়েন।
রাজনীতিতে আসার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শুরুর দিকে ইশরাক গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে, রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হিসেবে নগরবাসী, এলাকাবাসী ও দেশবাসীর প্রতি তার একটা দায়বদ্ধতা রয়েছে। সেই দায়বদ্ধতার কারণে ছোটবেলা থেকেই তিনি রাজনীতিতে আসার বিষয়ে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন এবং সবসময় রাজনৈতিকভাবে সচেতন ছিলেন।
শিক্ষাজীবন
ইশরাক হোসেনের শিক্ষাজীবন অত্যন্ত উজ্জ্বল। ঢাকার স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্কলাস্টিকা থেকে ও-লেভেল এবং এ-লেভেল সম্পন্ন করার পর তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। সেখানে ইউনিভার্সিটি অব হার্টফোর্ডশায়ার থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পেশাগত জীবনে তিনি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যুক্তরাজ্যের মোটরগাড়ি শিল্পে কাজ করেছেন।
২০২০-এর সিটি নির্বাচন: রাজনীতির টার্নিং পয়েন্ট
ইশরাকের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় বাঁক ছিল ২০২০ সালের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচন। সেই নির্বাচনে প্রবল প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি মাঠ ছাড়েননি, যা তাকে ‘লড়াকু’ নেতার তকমা এনে দেয়। যদিও ভোট কারচুপির অভিযোগে ফলাফলটি তখন তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল সেই ফলাফল বাতিল করে ইশরাক হোসেনকে ডিএসসিসির প্রকৃত বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করে। এপ্রিলে নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করে তাকে মেয়র ঘোষণা করে। কিন্তু আইনি জটিলতায় সে সময় তিনি শপথ নিতে পারেননি।
প্রথমবার এমপি হয়েই প্রতিমন্ত্রী: এক নতুন উচ্চতা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসন থেকে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে বিজয়ী হওয়া ইশরাক হোসেনের জন্য এই জয় ছিল এক অগ্নিপরীক্ষা। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ে ৭৮ হাজার ৮৫০ ভোট পেয়ে তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবদুল মান্নানকে ২৩ হাজার ১৫৩ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। এই জয় কেবল তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা নয়, বরং পুরান ঢাকার রাজনীতির ওপর তার সুদৃঢ় নিয়ন্ত্রণকে প্রমাণ করে।
নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার পরপরই এক বড় চমক হিসেবে ইশরাক হোসেন সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হয়েই মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাওয়া বিএনপির বর্তমান প্রজন্মের নেতৃত্বের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে এক বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের আধুনিকায়ন, মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাসে উদ্বুদ্ধ করার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
মেয়র নির্বাচনের নতুন ঘোষণা
প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পরও ঢাকার নাড়ির টান ভোলেননি ইশরাক। সম্প্রতি তিনি নতুন করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন। সরকারের মন্ত্রী হয়েও পুনরায় নগরপিতার আসনে বসার এই আকাঙ্ক্ষা তার ‘নগরকেন্দ্রিক রাজনীতি’র প্রতি একাগ্রতাকেই তুলে ধরে। তার সমর্থকদের মতে, ইশরাক ঢাকাকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার যে স্বপ্ন তার বাবার চোখে দেখেছিলেন, সেটিই বাস্তবায়ন করতে চান।