১৯৮৭ সালের ৫ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের রাজনীতির হাতেখড়ি শৈশবেই ঘরোয়া আবহে। তিনি অবিভক্ত ঢাকার সাবেক সফল মেয়র এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার জ্যেষ্ঠ পুত্র। রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে উঠলেও ২০১৯ সালের আগে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না খোকাপুত্র। ২০১৯ সালের নভেম্বরে বাবার মৃত্যুর পর রাজনীতির মাঠে মুখ চেনান তিনি। ‘ফুলটাইম’ রাজনীতিক হিসেবে বাবার রেখে যাওয়া জায়গায় কাজ শুরু করেন ইশরাক হোসেন। তবে কেবল বাবার পরিচয় নয়, বরং শিক্ষিত, মার্জিত এবং স্পষ্টবাদী তরুণ নেতা হিসেবে খুব দ্রুতই তিনি বিএনপির তৃণমূল ও সাধারণ মানুষের নজর কাড়েন।
ইশরাক হোসেনের শিক্ষাজীবন অত্যন্ত উজ্জ্বল। ঢাকার স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্কলাস্টিকা থেকে ও-লেভেল এবং এ-লেভেল সম্পন্ন করার পর তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। সেখানে ইউনিভার্সিটি অব হার্টফোর্ডশায়ার থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পেশাগত জীবনে তিনি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যুক্তরাজ্যের মোটরগাড়ি শিল্পে কাজ করেছেন।
ইশরাকের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় বাঁক ছিল ২০২০ সালের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচন। সেই নির্বাচনে প্রবল প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি মাঠ ছাড়েননি, যা তাকে ‘লড়াকু’ নেতার তকমা এনে দেয়। যদিও ভোট কারচুপির অভিযোগে ফলাফলটি তখন তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল সেই ফলাফল বাতিল করে ইশরাক হোসেনকে ডিএসসিসির প্রকৃত বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করে। এপ্রিলে নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করে তাকে মেয়র ঘোষণা করে। কিন্তু আইনি জটিলতায় সে সময় তিনি শপথ নিতে পারেননি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসন থেকে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে বিজয়ী হওয়া ইশরাক হোসেনের জন্য এই জয় ছিল এক অগ্নিপরীক্ষা। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ে ৭৮ হাজার ৮৫০ ভোট পেয়ে তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবদুল মান্নানকে ২৩ হাজার ১৫৩ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। এই জয় কেবল তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা নয়, বরং পুরান ঢাকার রাজনীতির ওপর তার সুদৃঢ় নিয়ন্ত্রণকে প্রমাণ করে।
প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পরও ঢাকার নাড়ির টান ভোলেননি ইশরাক। সম্প্রতি তিনি নতুন করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন। সরকারের মন্ত্রী হয়েও পুনরায় নগরপিতার আসনে বসার এই আকাঙ্ক্ষা তার ‘নগরকেন্দ্রিক রাজনীতি’র প্রতি একাগ্রতাকেই তুলে ধরে। তার সমর্থকদের মতে, ইশরাক ঢাকাকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার যে স্বপ্ন তার বাবার চোখে দেখেছিলেন, সেটিই বাস্তবায়ন করতে চান।