
মোঃ শাহ কবির, ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি:
বয়স যে শিক্ষার পথে বাধা হতে পারে না, তার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার মোঃ নাসিমুল হক (৪৫)। জীবনের নানা প্রতিকূলতা ও সংসারের দায়িত্বের চাপে দুই যুগ আগে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়া এই ব্যক্তি ৪৫ বছর বয়সে আবারও বই-খাতা হাতে তুলে নিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
নাসিমুল হক ২০০২ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হন। এরপর লেখাপড়ার হাল ছেড়ে সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। জীবিকার তাগিদে পেশা হিসেবে বেছে নেন কাঠমিস্ত্রির কাজ। দিনভর কাঠের কাজ করে সংসার চালানোর পাশাপাশি মনের মধ্যে শিক্ষার প্রতি আগ্রহটি থেকেই যায়।
দীর্ঘ ২৪ বছর পর সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে আবারও পড়াশোনায় ফিরেন তিনি। কর্মব্যস্ততার মধ্যেও নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় রাজশাহী কমার্স কলেজ (ভোকেশনাল) থেকে অংশ নেন। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তিনি ৪.৬২ জিপিএ পেয়ে সফলতার সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
ভোলাহট উপজেলা ফার্নিচার শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নাসিমুল হক দুই ছেলে ও এক মেয়ের বাবা। সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার পাশাপাশি নিজের অসমাপ্ত শিক্ষাজীবনও শেষ করার দৃঢ় প্রত্যয় তাকে এই সাফল্য এনে দিয়েছে।
নাসিমুল হকের এই অর্জন শুধু তার নিজের নয়, বরং সমাজের অনেক মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার। তিনি প্রমাণ করেছেন—ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম ও অধ্যবসায় থাকলে বয়স কিংবা জীবনের প্রতিকূলতা কোনো কিছুই শিক্ষার পথে চূড়ান্ত বাধা হতে পারে না।
তার এই সাফল্যে পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়রা আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, নাসিমুল হকের মতো মানুষের জীবনসংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প নতুন প্রজন্মের পাশাপাশি যারা মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছেন, তাদেরও নতুন করে স্বপ্ন দেখতে উৎসাহিত করবে।