
মো. শাহ কবির, ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার ৩নং দলদলী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের কৃষক মোঃ আমিরুল ইসলাম সাম্মাম ও তরমুজ চাষ করে স্বাবলম্বিতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এক বিঘা জমিতে সাম্মাম ও তরমুজ চাষ করে তিনি চলতি মৌসুমে প্রায় ৩ লাখ টাকা আয় করার আশা করছেন।
কৃষক আমিরুল ইসলাম জানান, মার্চ-এপ্রিল মাসে বীজ বপনের পর প্রায় ৭০ থেকে ৮০ দিনের মধ্যেই ফল পরিপক্ব হয়ে বাজারজাত করা যায়। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে। তবে এলাকায় সাম্মাম ফলের তেমন প্রচলন না থাকায় স্থানীয় বাজারে এর চাহিদা তুলনামূলক কম। অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এ ফলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এলাকায় অল্প পরিসরে চাষ হওয়ায় বাইরের বড় ক্রেতারা আসতে আগ্রহ দেখান না। যদি এলাকার আরও কৃষক বাণিজ্যিকভাবে সাম্মাম ও তরমুজ চাষে এগিয়ে আসেন, তাহলে বাইরের পাইকার ও ক্রেতাদের আগমন বাড়বে। এতে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং উৎপাদন আরও লাভজনক হবে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, সাম্মাম ও তরমুজ চাষে উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম হলেও লাভের সম্ভাবনা অনেক বেশি। ফলে এ অঞ্চলে এটি একটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল হিসেবে পরিচিতি লাভ করছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ সুলতান আলী বলেন, “ভোলাহাটের মাটি ও আবহাওয়া সাম্মাম ও তরমুজ চাষের জন্য উপযোগী। কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে। অধিক সংখ্যক কৃষক এ চাষে এগিয়ে এলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, বাজার সম্প্রসারিত হবে এবং কৃষকদের আয়ও বাড়বে। কৃষি বিভাগ সব ধরনের কারিগরি সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।”
কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও কৃষকদের আগ্রহ অব্যাহত থাকলে ভোলাহাটে সাম্মাম ও তরমুজ চাষ আগামী দিনে কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।