
নিউজ ডেক্স
“সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জুলাই বিপ্লবকে অস্বীকার করতে চাইছে সরকার” — মমিনুল হক সরকার
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি (মঞ্জুর ইসলাম, সোনারগাঁও): গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কার, জুলাই গণহত্যাসহ ফ্যাসিবাদী আমলের সব গুম-খুনের বিচার ত্বরান্বিত করা এবং সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দাবিতে নারায়ণগঞ্জে সমাবেশ ও গণমিছিল করেছে ১১ দলীয় ঐক্য।
আজ (৪ জুলাই, ২০২৬) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার শিবু মার্কেট এলাকায় জেলা ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ জেলার আমীর মুহাম্মদ মমিনুল হক সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন:
জুবায়ের সরদার (আহ্বায়ক, এন সি পি, নারায়ণগঞ্জ জেলা)
মাওলানা ওবায়দুল কাদের নদভী (সভাপতি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, নারায়ণগঞ্জ জেলা)
মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান (সেক্রেটারী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, নারায়ণগঞ্জ জেলা)
জুবায়ের তামজিদ (সদস্য সচিব, এস সিপি, নারায়ণগঞ্জ জেলা)
মাওলানা মুহাম্মদ এমদাদুল্লাহ (সেক্রেটারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, নারায়ণগঞ্জ জেলা)
আবু সাঈদ মুন্না (সহকারী সেক্রেটারী ও মিডিয়া সম্পাদক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, নারায়ণগঞ্জ জেলা)
অধ্যাপক মাসুদুর রহমান গিয়াস প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
সভাপতির বক্তব্য:
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ মমিনুল হক সরকার বলেন, “প্রচলিত রাজনীতি ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যেই ছাত্র-জনতার জুলাই বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল। এই আকাঙ্ক্ষা থেকেই জুলাই সনদ প্রণীত হয়েছে এবং জনগণ এই সনদের পক্ষেই গণভোটে রায় দিয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে জুলাই সনদকে অস্বীকার করছে। তারা অতীতের ফ্যাসিবাদী আমলের মতোই রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চায়।”
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, “কোনো আইন ও নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় লোকদের ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জেলা ও মহানগরে দলীয় লোকদের প্রশাসক নিয়োগ করে সর্বত্র দলীয়করণের মহোৎসব শুরু করেছে বিএনপি, যা আওয়ামী অপরাজনীতির অন্ধ অনুসরণ ছাড়া আর কিছুই নয়।” ক্ষমতাসীন মহলের এমন অন্যায় ও অগণতান্ত্রিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের জনগণকে আবারও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অন্যান্য নেতৃবৃন্দের বক্তব্য:
এনসিপির জেলা আহ্বায়ক জুবায়ের সরদার বলেন, “জুলাই বিপ্লব আমাদের জাতীয় সত্তার অংশ। জুলাইকে অস্বীকার করে বিএনপি ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না।” তিনি অবিলম্বে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
জামায়াতে ইসলামীর জেলা সেক্রেটারী মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, “পতিত স্বৈরাচারের কালচারাল উইংয়ের লোকেরা জুলাই বিপ্লবকে বিতর্কিত করতে মাঠে নেমেছে, যার সাথে সরকারি দলের কোনো কোনো এমপিও যুক্ত হয়েছেন। যারা জুলাই বিপ্লবকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করবে, আমরা ধরে নেব তারা ফ্যাসিবাদের আত্মাকেই বহন করছে।”
গণমিছিল ও সমাপ্তি:
সমাবেশ শেষে একটি বিশাল গণমিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শিবু মার্কেট থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।