
নিজস্ব প্রতিবেদক |
[তারিখ], ২০২৬
ঢাকা: ঢাকা-কিশোরগঞ্জ রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর এগারসিন্দুর প্রভাতী ও এগারসিন্দুর গোধূলি ট্রেনে যাত্রী সেবার নামে চলছে ভয়াবহ সিট বাণিজ্য ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের মহোৎসব। রেলওয়ের ই-টিকেটিং ওয়েবসাইটের কারিগরি ত্রুটিকে পুঁজি করে প্রতি বছর প্রায় অর্ধ কোটি থেকে এক কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ট্রেনের দায়িত্বে থাকা বেসরকারি এটেনডেন্ট কোম্পানি ও তাদের অসাধু কর্মীরা। এই অনিয়মের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ঢাকা রেলওয়ে থানায় একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে যা পাওয়া গেছে:
অনুসন্ধানে জানা যায়, এগারসিন্দুর প্রভাতী (৭১৯) ও এগারসিন্দুর গোধূলি (৭৩৭) ট্রেনের শোভন কোচগুলোতে অতিরিক্ত ২৪ থেকে ৪০টি আসন রয়েছে। কিন্তু রেলওয়ের টিকিট বিক্রির অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (eticket.railway.gov.bd)-এ কারিগরি ত্রুটির কারণে এই সিটগুলো প্রদর্শিত হয় না। ফলে সাধারণ যাত্রীরা অনলাইনে বা কাউন্টারে এই সিটগুলোর টিকিট পান না।
এই ‘অদৃশ্য’ সিটগুলোকেই আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে বেছে নিয়েছে ট্রেনের দায়িত্বে থাকা বেসরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এটেনডেন্ট ও ম্যানেজাররা। প্রতিদিন প্রতিটি ট্রেনে ৬০ থেকে ৭০টি অতিরিক্ত সিট তারা সাধারণ যাত্রীদের কাছে সরকার নির্ধারিত ১৩৫ টাকা ভাড়ার চেয়েও কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি করছে।
কোটি টাকার লুটপাট:
হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন দুটি ট্রেনে যে পরিমাণ অতিরিক্ত সিট অবৈধভাবে বিক্রি হচ্ছে, তার মাধ্যমে বছরে অন্তত ৫০ লক্ষ থেকে ১ কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না হয়ে সরাসরি চলে যাচ্ছে দায়িত্বরত কোম্পানি ও অসাধু কর্মীদের পকেটে।
হাতে নাতে প্রমাণ ও মামলা:
সরেজমিনে তদন্তকালে এটেনডেন্ট ও ম্যানেজারদের সরাসরি টাকা লেনদেনের একাধিক ভিডিও ফুটেজ ধারণ করা হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, সিট খালি নেই বলে সাধারণ যাত্রীদের ফিরিয়ে দিলেও মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ঠিকই এই অতিরিক্ত আসনগুলো বরাদ্দ দিচ্ছে এটেনডেন্টরা। এই প্রমাণের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ঢাকা রেলওয়ে থানায় অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের বক্তব্য:
কিশোরগঞ্জের নিয়মিত এক যাত্রী বলেন, “আমরা অনলাইনে সিট পাই না, কিন্তু ট্রেনে উঠলে দেখি সিট খালি। পরে এটেনডেন্টদের বেশি টাকা দিলে তারা সিট দেয়। এটা দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট।”
এ বিষয়ে ঢাকা রেলওয়ে থানার পুলিশ জানায়, অভিযোগটি আমলে নেওয়া হয়েছে এবং ভিডিও ফুটেজ যাচাই করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রেলওয়ের এই বিশাল অঙ্কের রাজস্ব চুরি ঠেকাতে ই-টিকেটিং সিস্টেমের দ্রুত সংস্কার এবং দায়ী কোম্পানির লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।