রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১০:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নওগাঁয় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে দুই কিশোর কারাগারে কলম্বিয়া ওয়াশিং প্লান্ট লি: এর প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত নওগাঁয় নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু নওগাঁয় অভ্যন্তরীন বোরো ধান সংগ্রহের নামে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রাণীনগরে খাস জায়গার গাছ কাটার বিষয়ে নিরব প্রশাসন মোটরসাইকেলের সাইলেন্সের বিকট শব্দ, কিশোরের ২০ হাজার টাকা জরিমানা নওগাঁর আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার নানা সমস্যায় জর্জরিত আ.লীগ সঙ্গীদের নিয়ে কার্যালয় দখলের অভিযোগ, ছুরিকাঘাতে বিএনপি নেতা আহত মজুত থাকলেও রোগীকে স্যালাইন না দেওযায় টাকা ফেরত দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী নওগাঁয় স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন প্রতিযোগীদের পুরস্কার ও বস্ত্র বিতরণ

এগারসিন্দুর ট্রেনের ‘অদৃশ্য’ সিট বিক্রি করে কোটি টাকা আত্মসাৎ, রেলওয়ে থানায় অভিযোগ

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৭৬ বার পড়া হয়েছে
295

নিজস্ব প্রতিবেদক |

[তারিখ], ২০২৬
​ঢাকা: ঢাকা-কিশোরগঞ্জ রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর এগারসিন্দুর প্রভাতী ও এগারসিন্দুর গোধূলি ট্রেনে যাত্রী সেবার নামে চলছে ভয়াবহ সিট বাণিজ্য ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের মহোৎসব। রেলওয়ের ই-টিকেটিং ওয়েবসাইটের কারিগরি ত্রুটিকে পুঁজি করে প্রতি বছর প্রায় অর্ধ কোটি থেকে এক কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ট্রেনের দায়িত্বে থাকা বেসরকারি এটেনডেন্ট কোম্পানি ও তাদের অসাধু কর্মীরা। এই অনিয়মের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ঢাকা রেলওয়ে থানায় একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
​অনুসন্ধানে যা পাওয়া গেছে:
অনুসন্ধানে জানা যায়, এগারসিন্দুর প্রভাতী (৭১৯) ও এগারসিন্দুর গোধূলি (৭৩৭) ট্রেনের শোভন কোচগুলোতে অতিরিক্ত ২৪ থেকে ৪০টি আসন রয়েছে। কিন্তু রেলওয়ের টিকিট বিক্রির অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (eticket.railway.gov.bd)-এ কারিগরি ত্রুটির কারণে এই সিটগুলো প্রদর্শিত হয় না। ফলে সাধারণ যাত্রীরা অনলাইনে বা কাউন্টারে এই সিটগুলোর টিকিট পান না।
​এই ‘অদৃশ্য’ সিটগুলোকেই আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে বেছে নিয়েছে ট্রেনের দায়িত্বে থাকা বেসরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এটেনডেন্ট ও ম্যানেজাররা। প্রতিদিন প্রতিটি ট্রেনে ৬০ থেকে ৭০টি অতিরিক্ত সিট তারা সাধারণ যাত্রীদের কাছে সরকার নির্ধারিত ১৩৫ টাকা ভাড়ার চেয়েও কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি করছে।
​কোটি টাকার লুটপাট:
হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন দুটি ট্রেনে যে পরিমাণ অতিরিক্ত সিট অবৈধভাবে বিক্রি হচ্ছে, তার মাধ্যমে বছরে অন্তত ৫০ লক্ষ থেকে ১ কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না হয়ে সরাসরি চলে যাচ্ছে দায়িত্বরত কোম্পানি ও অসাধু কর্মীদের পকেটে।
​হাতে নাতে প্রমাণ ও মামলা:
সরেজমিনে তদন্তকালে এটেনডেন্ট ও ম্যানেজারদের সরাসরি টাকা লেনদেনের একাধিক ভিডিও ফুটেজ ধারণ করা হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, সিট খালি নেই বলে সাধারণ যাত্রীদের ফিরিয়ে দিলেও মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ঠিকই এই অতিরিক্ত আসনগুলো বরাদ্দ দিচ্ছে এটেনডেন্টরা। এই প্রমাণের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ঢাকা রেলওয়ে থানায় অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।
​ভুক্তভোগীদের বক্তব্য:
কিশোরগঞ্জের নিয়মিত এক যাত্রী বলেন, “আমরা অনলাইনে সিট পাই না, কিন্তু ট্রেনে উঠলে দেখি সিট খালি। পরে এটেনডেন্টদের বেশি টাকা দিলে তারা সিট দেয়। এটা দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট।”
​এ বিষয়ে ঢাকা রেলওয়ে থানার পুলিশ জানায়, অভিযোগটি আমলে নেওয়া হয়েছে এবং ভিডিও ফুটেজ যাচাই করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
​রেলওয়ের এই বিশাল অঙ্কের রাজস্ব চুরি ঠেকাতে ই-টিকেটিং সিস্টেমের দ্রুত সংস্কার এবং দায়ী কোম্পানির লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews