শামীম আনসারী নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: নওগাঁয় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রবিবার রাত ৮ টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত জেলার ১১টি উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়বৃষ্টিতে এই ফল ও ফসল আক্রান্ত হয়। তবে ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠার পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে চাষীদের কৃষি পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। তবে বোরো ধান ও আমের জন্য জন্য বৃষ্টি উপকার হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে কলা, ভুট্টা, গম, আলু ও শাকসবজিসহ ৭৩১ দশমিক ৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতির মুখে পড়েছে। এরই মধ্যে ২২৫ হেক্টর জমির কলা, ২১৬ হেক্টর জমির ভুট্টা, ২১৬ হেক্টর জমির গম, ২৫ হেক্টর জমির আলু এবং ৪৯ দশমিক ৫ হেক্টর জমির বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি। আক্রান্ত হয়েছে। আর্থিক ক্ষতির হিসেবে কষলে দেখা যায় এই ঝড়ে প্রায় ১৬৯ কোটি টাকার ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্যমতে প্রায় ৫০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হয়। একই সময়ে মোট ২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। কালবৈশাখী ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে কলা, পেঁপে, ভুট্টা, গম, আলু ও শাকসবজিসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল আক্রান্ত হয়েছে। কলা বাগানগুলোর অধিকাংশ গাছের মাথা বাতাসে ভেঙে পড়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ কলাই পরিপক্ক হতে শুরু করেছিলো। যা আর এক সপ্তাহ থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই কৃষকের ঘরে উঠার কথা ছিলো। কলার কাঁদি নষ্ট হওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষীরা। পেঁপে গাছের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। অনেক জমির গমের শীষ ভেঙে হেলে পড়েছে। হেলে পড়েছে ভুট্টার গাছগুলোও। জেলার আত্রাই উপজেলার পশ্চিম মিরাপুর গ্রামে কৃষক হেলাল হোসেন বলেন- ১০ কাঠা জমিতে ভুট্টা আবাদ করা হয়েছে। গাছে গাছে ভুট্টার কাদিও আসছে। এরমধ্যে রোববার রাতে হঠাৎ কালবৈশাখের ঝড়ে সবগুলো গাছ হেলে পড়েছে। এখনতো আর আশানুরুপ ফলন পাওয়া যাবে না। এতে ক্ষতিগ্রস্থের মধ্যে পড়তে হলো। বদলগাছী উপজেলার বালুভরা ইউনিয়নের কুশারমুড়ি গ্রামের কলাচাষী জুয়েল রানা বলেন, প্রায় ৬ বিঘা জমিতে সাগরি কলার বাগান আছে। এক রাতের কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে বাগানের অর্ধেকেরও বেশি গাছ ভেঙে পড়েছে। বেশিরভাগ কলা বাজারে তোলার উপযোগী হয়ে উঠছিলো। আর এক-দুই সপ্তাহের মধ্যেই বিক্রি করার পরিকল্পনা ছিলো। কিন্তু ঝড়ে সব শেষ হয়ে গেলো। ঝড়ে প্রায় আড়াই লাখ টাকার মতো ক্ষতি হলো। পোরশা উপজেলার আমচাষী রায়হান আলম বলেন, প্রায় ২১০ বিঘা জমিতে আম বাগান রয়েছে। গাছে মুকুল থেকে এখন মটরদানার মতো গুটি বেরিয়েছে। বেশকিছু দিন অনাবৃষ্টি ছিল। আমগাছ পরিচর্চায় মাসে ২-৩ বার পানি সেচ দিতে হতো। তবে বৃষ্টিতে আমগাছের জন্য ব্যাপক উপকার হয়েছে। নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোছাঃ হোমায়রা মন্ডল বলেন- গত রাতের ঝড় বৃষ্টিতে যেসমস্ত জমির কলা, ভুট্টা এবং পেঁপে আক্রান্ত হয়েছে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া আর সম্ভব নয়। এটি চাষীদের চূড়ান্ত ক্ষতি। তবে আলু ও কিছু শাসসবজির জমিতে জমে থাকা পানি শুকিয়ে গেলে সেখান থেকে কিছু ফসল চাষীরা বিক্রি করতে পারবে। এছাড়া যেসমস্ত জমির গম হেলে পড়েছে সেটা আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে ঠিক হয়ে যাবে। তবে বৈরী আবহাওয়া শুরু হওয়ায় বর্তমানে কৃষকদের পরিপক্ক হওয়া ফল ও ফসল দ্রুত উত্তোলনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।#
73
শামীম আনসারী নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:
নওগাঁয় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রবিবার রাত ৮ টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত জেলার ১১টি উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়বৃষ্টিতে এই ফল ও ফসল আক্রান্ত হয়। তবে ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠার পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে চাষীদের কৃষি পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। তবে বোরো ধান ও আমের জন্য জন্য বৃষ্টি উপকার হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে কলা, ভুট্টা, গম, আলু ও শাকসবজিসহ ৭৩১ দশমিক ৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতির মুখে পড়েছে। এরই মধ্যে ২২৫ হেক্টর জমির কলা, ২১৬ হেক্টর জমির ভুট্টা, ২১৬ হেক্টর জমির গম, ২৫ হেক্টর জমির আলু এবং ৪৯ দশমিক ৫ হেক্টর জমির বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি। আক্রান্ত হয়েছে। আর্থিক ক্ষতির হিসেবে কষলে দেখা যায় এই ঝড়ে প্রায় ১৬৯ কোটি টাকার ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্যমতে প্রায় ৫০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হয়। একই সময়ে মোট ২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
কালবৈশাখী ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে কলা, পেঁপে, ভুট্টা, গম, আলু ও শাকসবজিসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল আক্রান্ত হয়েছে। কলা বাগানগুলোর অধিকাংশ গাছের মাথা বাতাসে ভেঙে পড়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ কলাই পরিপক্ক হতে শুরু করেছিলো। যা আর এক সপ্তাহ থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই কৃষকের ঘরে উঠার কথা ছিলো। কলার কাঁদি নষ্ট হওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষীরা। পেঁপে গাছের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। অনেক জমির গমের শীষ ভেঙে হেলে পড়েছে। হেলে পড়েছে ভুট্টার গাছগুলোও।
জেলার আত্রাই উপজেলার পশ্চিম মিরাপুর গ্রামে কৃষক হেলাল হোসেন বলেন- ১০ কাঠা জমিতে ভুট্টা আবাদ করা হয়েছে। গাছে গাছে ভুট্টার কাদিও আসছে। এরমধ্যে রোববার রাতে হঠাৎ কালবৈশাখের ঝড়ে সবগুলো গাছ হেলে পড়েছে। এখনতো আর আশানুরুপ ফলন পাওয়া যাবে না। এতে ক্ষতিগ্রস্থের মধ্যে পড়তে হলো।
বদলগাছী উপজেলার বালুভরা ইউনিয়নের কুশারমুড়ি গ্রামের কলাচাষী জুয়েল রানা বলেন, প্রায় ৬ বিঘা জমিতে সাগরি কলার বাগান আছে। এক রাতের কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে বাগানের অর্ধেকেরও বেশি গাছ ভেঙে পড়েছে। বেশিরভাগ কলা বাজারে তোলার উপযোগী হয়ে উঠছিলো। আর এক-দুই সপ্তাহের মধ্যেই বিক্রি করার পরিকল্পনা ছিলো। কিন্তু ঝড়ে সব শেষ হয়ে গেলো। ঝড়ে প্রায় আড়াই লাখ টাকার মতো ক্ষতি হলো।
পোরশা উপজেলার আমচাষী রায়হান আলম বলেন, প্রায় ২১০ বিঘা জমিতে আম বাগান রয়েছে। গাছে মুকুল থেকে এখন মটরদানার মতো গুটি বেরিয়েছে। বেশকিছু দিন অনাবৃষ্টি ছিল। আমগাছ পরিচর্চায় মাসে ২-৩ বার পানি সেচ দিতে হতো। তবে বৃষ্টিতে আমগাছের জন্য ব্যাপক উপকার হয়েছে।
নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোছাঃ হোমায়রা মন্ডল বলেন- গত রাতের ঝড় বৃষ্টিতে যেসমস্ত জমির কলা, ভুট্টা এবং পেঁপে আক্রান্ত হয়েছে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া আর সম্ভব নয়। এটি চাষীদের চূড়ান্ত ক্ষতি। তবে আলু ও কিছু শাসসবজির জমিতে জমে থাকা পানি শুকিয়ে গেলে সেখান থেকে কিছু ফসল চাষীরা বিক্রি করতে পারবে। এছাড়া যেসমস্ত জমির গম হেলে পড়েছে সেটা আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে ঠিক হয়ে যাবে। তবে বৈরী আবহাওয়া শুরু হওয়ায় বর্তমানে কৃষকদের পরিপক্ক হওয়া ফল ও ফসল দ্রুত উত্তোলনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।#