বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নওগাঁয় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে দুই কিশোর কারাগারে কলম্বিয়া ওয়াশিং প্লান্ট লি: এর প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত নওগাঁয় নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু নওগাঁয় অভ্যন্তরীন বোরো ধান সংগ্রহের নামে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রাণীনগরে খাস জায়গার গাছ কাটার বিষয়ে নিরব প্রশাসন মোটরসাইকেলের সাইলেন্সের বিকট শব্দ, কিশোরের ২০ হাজার টাকা জরিমানা নওগাঁর আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার নানা সমস্যায় জর্জরিত আ.লীগ সঙ্গীদের নিয়ে কার্যালয় দখলের অভিযোগ, ছুরিকাঘাতে বিএনপি নেতা আহত মজুত থাকলেও রোগীকে স্যালাইন না দেওযায় টাকা ফেরত দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী নওগাঁয় স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন প্রতিযোগীদের পুরস্কার ও বস্ত্র বিতরণ

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ৩৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পথগুলো যেন মরণফাঁদ

  • প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
  • ৪৮ বার পড়া হয়েছে
115

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: শামীম আনসারী 

 

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার অধিকাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই সংযোগ সড়ক। যে সড়কগুলো রয়েছে সেগুলো কাঁদা ও জলাবদ্ধতায় যেন মরণফাঁদ। যেকোন সময় ঘটতে পারে দূর্ঘটনা। এতে স্কুল বিমুখ হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। পড়াশুনা থেকে পিছিয়ে পড়তে হচ্ছে তাদের। একাধিকবার প্রশাসনকে অবগত করা হলেও কোন সমাধান মিলেনি বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

 

 

 

উপজেলার গাবনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি মুল পাকাসড়ক থেকে দুরুত্ব প্রায় ৩০০ মিটার। সরু এ পথটি দিয়ে গাবনা গ্রাম সহ পাশের গোধইল গ্রামের অন্তত ৭০ জন শিক্ষার্থী স্কুলে আসে। এ পথটি শুধু স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য না, এ গ্রামের স্কুল পাড়ার অন্তত দেড়শ পরিবারের ৫০০ মানুষের চলাচলের একমাত্র পথ। শুষ্ক মৌসুমে এ পথটি শুকনো। তবে বর্ষায় অন্তত ৬ মাস জলাবদ্ধ থাকে এ পথ। বিকল্প কোন পথ না থাকায় হাঁটু সমান পানি মাড়িয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয়দের প্রতিনিয়ত চলাচল করতে হচ্ছে। এ সরু পথটি অপেক্ষাকৃত নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এ পথের কারণে শিশুদের স্কুলে পাঠিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয় অভিভাবকদের। স্কুলে আসা ও ছুটির সময় নিয়ে যেতে হয় তাদের।

 

 

 

জলাবদ্ধতার কারণে অনেকে স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে পানিতে পড়ে ভিজে যাওয়া সহ পোশাক নোংরা হয়ে যায়। এ কারণে অভিভাবকরাও স্কুলে আসতে দেয় না। এছাড়া পঁচা ও দূর্গন্ধ পানিতে আসা-যাওয়া করায় পায়ে চুলকানি ও ঘা হয়। জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসা কমিয়ে দিয়েছে। এতে পড়াশুনা থেকে অনেকটা পিছিয়ে পড়তে হচ্ছে। এ বিদ্যালয়ের দুইপাশে দুইটি পুকুর। পাড় ভেঙে এখন অনেকটা ঝুঁকিপূর্ন অবস্থা স্কুল ভবনের। যে কোন সময় ভেঙে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে স্কুলের শিক্ষার্থীর উপস্থিতির হার ৬০ শতাংশ।

 

 

 

উপজেলার ছোট কাবলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একই চিত্র। মুল সড়ক থেকে স্কুলের দুরুত্ব প্রায় ৪০০ মিটার। মাটির সরু সড়কটি দিয়ে আসা-যাওয়া করতে হয়। সড়কটি বর্ষার পানিতে কাঁদা ও জলাবদ্ধতা হয়। এমন অবস্থা উপজেলার ৩৪ টি স্কুলের। দ্রুত এ সড়কগুলো সংস্কারের দাবী জানান এলাকাবাসী।

 

 

 

চতুর্থ শ্রেনীর শিক্ষার্থী তানজিলা আক্তার ও পঞ্চম শ্রেনীর শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম জানায়- কাঁদাপানি দিয়ে স্কুলে আসা-যাওয়া করায় পঁচা পানির কারণে পায়ে চুলকানি হয়েছে। অনেকের পায়ে ঘা হয়েছে। আবার যারা ছোট তারা অনেক সময় পানিতে পড়ে গিয়ে জামা-কাপড় ও বই ভিজে যায়। ছোটদের বাবা-মা তাদেরকে স্কুলে আসেত দিতে চাইনা।

 

 

 

স্থানীয় বাসীন্দা খাইরুল ইসলাম, নুর মোহাম্মদ ও আলতাফ হোসেনসহ কয়েকজন বলেন- স্কুল পাড়ায় প্রায় ১৫০ টি পরিবারে ৫০০ মানুষের বসবাস। এ পাড়ায় যাওয়ার একটিমাত্র পথ। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। বছরে প্রায় ৬-৭ মাস এখানে জলাবদ্ধতা থাকে। পঁচা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানির মধ্যে দিয়ে আমাদের প্রতিনিয়ত চলাচল করতে হয়। বাচ্চারা স্কুলে আসা কমিয়ে দিয়েছে। এতে পড়াশুনা থেকে অনেকে পিছিয়ে পড়েছে। দ্রুত এ জলাবদ্ধতা নিরসন সহ সড়কটি সংস্কার করার দাবী জানাই।

 

 

 

গাবনা বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন- আমাদের স্কুলের দুইপাশে (উত্তর ও দক্ষিণ) দুইটি পুকুরের কারণে প্রতি বছর পাড় ভেঙে যাচ্ছে। পাড় ভেঙে স্কুলের উত্তর পাশের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা। গাইড ওয়াল নির্মাণ করা না হলে আগামী বছর হয়ত ভবনটি পুকুরে ধ্বসে যাবে। এতে পাঠদানে আমাদের সমস্যায় পড়তে হবে। জলাবদ্ধতা দুরীকরণসহ রাস্তা ও পাড় সংস্কার করা খুবই জরুরী হয়ে পড়েছে।

 

গাবনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) সোহেল রানা বলেন, বিদ্যালয়ে ৬ জন শিক্ষক ও ১৩২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। বর্তমানে এ জলাবদ্ধতার কারণে ৫০-৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী স্কুলে আসে। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের স্কুলে আসতে দিতে চাইনা। অনেক সময় আমরা এ পথ দিয়ে আসার সময় পোশাক নোংরা হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে আলাদা করে পোশাক সাথে নিয়ে আসতে হয়। প্রতি বছরই আমরা উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা অফিসে আবেদন দিয়। কিন্তু কোন কাজ হয়না।

 

 

 

বদলগাছী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আমিরুল ইসলাম বলেন- এ উপজেলায় ১৩৩ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এরমধ্যে ৩৪টি বিদ্যালয়ে যে সংযোগ পথ রয়েছে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় বিড়ম্বনায় পড়তে হয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয় সভায় আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়া সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল স্যারকে অবগত করা হয়েছে।

 

 

 

এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি বলেন, উপজেলার বেশকিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংযোগ সড়কের সমস্যা রয়েছে। স্কুলে আসা-যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের বিড়ম্বড়ায় পড়তে হয়। আশা করছি চলতি অর্থ বছরে সড়কগুলো সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা হবে। এতে শিক্ষার্থীরাও স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ বাড়বে।#

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews