রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নওগাঁয় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে দুই কিশোর কারাগারে কলম্বিয়া ওয়াশিং প্লান্ট লি: এর প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত নওগাঁয় নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু নওগাঁয় অভ্যন্তরীন বোরো ধান সংগ্রহের নামে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রাণীনগরে খাস জায়গার গাছ কাটার বিষয়ে নিরব প্রশাসন মোটরসাইকেলের সাইলেন্সের বিকট শব্দ, কিশোরের ২০ হাজার টাকা জরিমানা নওগাঁর আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার নানা সমস্যায় জর্জরিত আ.লীগ সঙ্গীদের নিয়ে কার্যালয় দখলের অভিযোগ, ছুরিকাঘাতে বিএনপি নেতা আহত মজুত থাকলেও রোগীকে স্যালাইন না দেওযায় টাকা ফেরত দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী নওগাঁয় স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন প্রতিযোগীদের পুরস্কার ও বস্ত্র বিতরণ

মেয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ায় স্ত্রীকে হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদন্ড

  • প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৮ বার পড়া হয়েছে
71

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি, শামীম আনসারী 

 

নওগাঁয় পারিবারিক কলহ ও কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ার জেরে হালিমা খাতুন নামে এক গৃহবধূ হত্যার দায়ে স্বামী শামীম সরদারকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

 

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালত নওগাঁ ও স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান এই রায় দেন।

 

মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৮ আগস্ট নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার দোহালী কোয়ালীপাড়া গ্রামের শামীম সরদারের সঙ্গে হালিমা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা ঢাকায় বসবাস করতেন। এরইমধ্যে হালিমা একটি কন্যা সন্তান জন্ম দিলে শামীম সেই সন্তানকে মেনে নিতে অস্বীকার করেন এবং স্ত্রী-সন্তানের প্রতি অবহেলা শুরু করেন। পরবর্তীতে শামীম মাঝে মধ্যে স্ত্রী হালিমাকে দেখতে গেলেও তাদের মধ্যে সামান্য বিষয় নিয়ে ঝগড়া হতো। মেয়ের পরিবার থেকে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে যেতে বললে শামীম বিভিন্ন অজুহাত দেখান।

 

মামলার বিবরণে আরও জানা যায়, হঠাৎ করে শামীম ১৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর মেয়ের পরিবারকে ফোন করে স্ত্রীকে হালিমা খাতুনকে গ্রামের বাড়ি মহাদেবপুরে পাঠিয়ে দিতে বলেন। মেয়ের পরিবার মেয়েকে একা পাঠাতে রাজি না হওয়ায় ২৭ ডিসেম্বর সকালে তার শ্বশুর বাড়িতে যান এবং সন্তানকে শ্বশুর বাড়ি রেখে স্ত্রী হালিমা খাতুনকে নিয়ে মহাদেবপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। শামীম হালিমাকে বাড়িতে নিয়ে আসার পর মেয়ের পরিবার থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে ফোন করে মেয়ের সাথে কথা বলতে চাইলে তাদের মেয়ে কাজে ব্যস্ত আছেন বলে শামীম বিভিন্ন তালবাহানা করতে থাকে। পরবর্তীতে ২৯ তারিখে নওগাঁ সদর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের (কিশোরীপুর) একটি ধান ক্ষেত থেকে হালিমার গলাকাটা ও ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ মেয়ের পরিবারকে ফোন করে জানালে তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মেয়ের গলা কাটা, মুখে ও পেটে ধারালো অস্ত্রের রক্তাক্ত জখম অবস্থায় লাশ দেখে সনাক্ত করেন। অতঃপর মেয়ের পরিবারের সদস্যরা শামীমের খোঁজখবর নিতে গিয়ে জানতে পারেন যে, মেয়ের লাশ উদ্ধার হওয়ার পর হতে শামীম পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় নিহত হালিমার বাবা বাদী হয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

 

মামলাটির তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ১৩ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে ৩০২/২০১ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়। ২৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোঃ রোকনুজ্জামান আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

 

মামলাটি রাষ্ট্রপক্ষে পরিচালনা করেন জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মোঃ শাহরিয়ার এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোঃ এমরান হোসেন।

 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো: শাহরিয়ার বলেন, এই রায়ে আমরা রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। ক্ষতিগ্রস্থতরা ন্যায় বিচার পেয়েছে। এই রায়ের মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews