বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৪৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নওগাঁয় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে দুই কিশোর কারাগারে কলম্বিয়া ওয়াশিং প্লান্ট লি: এর প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত নওগাঁয় নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু নওগাঁয় অভ্যন্তরীন বোরো ধান সংগ্রহের নামে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রাণীনগরে খাস জায়গার গাছ কাটার বিষয়ে নিরব প্রশাসন মোটরসাইকেলের সাইলেন্সের বিকট শব্দ, কিশোরের ২০ হাজার টাকা জরিমানা নওগাঁর আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার নানা সমস্যায় জর্জরিত আ.লীগ সঙ্গীদের নিয়ে কার্যালয় দখলের অভিযোগ, ছুরিকাঘাতে বিএনপি নেতা আহত মজুত থাকলেও রোগীকে স্যালাইন না দেওযায় টাকা ফেরত দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী নওগাঁয় স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন প্রতিযোগীদের পুরস্কার ও বস্ত্র বিতরণ

কারা ফটকে শেষ বারের মতো সন্তানের মুখ দেখলেন বাবা

  • প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬
  • ১৪০ বার পড়া হয়েছে
251

শহীদুল্লাহ আব্বাসী, ক্রাইম রিপোর্টার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। 

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছেলের মুখ শেষবারের মতো দেখার সুযোগ করে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে কারা প্রশাসন। রবিবার দুপুরে কঠোর নিরাপত্তায় দুলাল নামে এক বন্দিকে তার মৃত সন্তানের মুখ দেখার সুযোগ করে দেয় রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ। এসময় তৈরি হয় আবেগঘন মুহূর্ত।

কারাবন্দি দুলাল চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা। তিনি মাদক মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

দুলালের ছেলে আব্দুল্লাহ (২৪) শনিবার (২ মে) বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন। তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। মধ্যরাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

আব্দুল্লাহর মৃত্যুতে পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। পরে ছেলের মৃত্যুর খবর কারাগারে থাকা বাবা দুলালের কাছে পৌঁছায়। সন্তানের মৃত্যু সংবাদে ভেঙে পড়েন তিনিও। এমন পরিস্থিতিতে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে শেষবারের মতো বাবাকে সন্তানের মুখ দেখানোর জন্য মোবাইল ফোনে জানান নিহতের ফুফু সেলিনা বেগম। পরিবারের এই আবেদন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে কারা মহাপরিদর্শকের (আইজি প্রিজন্স) মৌখিক নির্দেশনায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আল মামুনের তত্ত্বাবধানে কারাগারের প্রধান ফটকে নিয়ে আসা হয় আব্দুল্লাহর মরদেহ। এসময় বন্দি দুলালকে শেষবারের মতো সন্তানের মুখ দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। ছেলের মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন দুলাল। উপস্থিত কারারক্ষী ও স্বজনদের অনেকেই এই দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইন ও নিরাপত্তা বজায় রেখে মানবিক দিক বিবেচনায় এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নিহতের ফুফু সেলিনা বেগম বলেন, শনিবার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ইসলামপুর এলাকায় ট্রাক্টরের চাপায় আব্দুল্লাহ আহত হয়। তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেদিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে আব্দুল্লাহর মৃত্যু হয়।

তিনি বলেন, রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজশাহী কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাদের বিস্তারিত জানানো হয়। তারা মরদেহ কারা ফটকে নিয়ে আসতে বলেন। আমরা দুপুরে আব্দুল্লাহর মরদেহ কারা ফটকে নিয়ে গেলে ভেতর থেকে দুলালকে নিয়ে আসা হয়। এরপরে দুলাল তার ছেলের মুখ শেষবারের মতো দেখেন। এসময় সবাই কান্নায় ভেঙে পড়েন।

রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আল মামুন বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির বোন সকালে ফোন করে বিষয়টি জানান। তারা কোনো আবেদন করেননি। এটা একটা মানবিক বিষয় ছিল। নিহতের মরদেহ কারাগারে প্রধান ফটকে নিয়ে আসতে বলা হয়, তারা নিয়ে আসেন। এরপরে ছেলের মুখ শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পান আসামি দুলাল।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews