
বুলবুল আহম্মেদ নওগাঁঃ
নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এর সরাসরি নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়ব্রত পাল,( ক্রাইম) ও ওসি ডিবি মোঃ হাসিবুল্লাহ হাসিব ও সকল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গন কে দ্রুত ব্যাবস্হা গ্রহনের জন্য নির্দেশ দেন।
পুলিশ সুপারের সুপারের নির্দেশনা পাওয়ার পরে জেলা পুলিশের সকল টিম একযোগে অভিযান পরিচালনা করে, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্হা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যাবহার করে, কুখ্যাত আন্ত জেলা ডাকাত কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। গত ৩১/০৩/২০২৬ তারিখ রাত্রী অনুমান ০৮.০৫ ঘটিকার সময় পোরশা থানাধীন সরাইগাছি হতে খাট্টাপাড়া গামী রাস্তার ফকিরের মোড় থেকে ১০০ গজ পূর্বে ব্রিজের উপরে রাস্তার দুই পাশ থেকে রশি টেনে একদল ডাকাত ০৩ (তিন) জন আরোহী সহ একটি মোটরসাইকেল পথরোধ করে। ডাকাত দল হাসুয়া, ছুরি, লাঠি দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদেরকে জিম্মি করে রাখে। এর ৫/৭ মিনিট পর অপর একটি মোটর সাইকেলে চালক সহ ০৩ (তিন) জন আরোহী আসলে তাদেরকেও রশি টেনে গতিরোধ করে জিম্মি করতঃ ভয়ভীতি দেখিয়ে রাস্তার পাশেই আম বাগানের ভিতর নিয়ে হাত-পা বেধে রাখে। ভিকটিমদের নিকট থেকে নগদ ৬০,০০০/ (ষাট হাজার) টাকা এবং একটি স্মার্ট ফোন ও তিনটি বাটন ফোন সহ ১২৫ সিসির ০২ (দুই) টি ডিসকভার মোটরসাইকেল ডাকাতি করে নিয়ে যায়।
ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পর পরই জেলার পুলিশ সুপার জেলার বিভিন্ন স্থানে চেকপোষ্ট স্থাপনের নির্দেশ দেন । একই সাথে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) জয়ব্রত পাল, এর নেতৃত্বে ওসি ডিবি পুলিশ পরিদর্শক হাসিব, জেলা গোয়েন্দা শাখা, এবং পোরশা থানার সমন্বয়ে একটি চৌকস টিম গঠন করে মামলার রহস্য দ্রুত উৎঘাটন সহ আসামী গ্রেফতার ও পৃষ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের জন্য বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয় । জেলা পুলিশের চৌকস দল তথ্য প্রযুক্তি ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহারের মাধ্যমে বিচার বিশ্লেষন করে অত্যন্ত দ্রুত মামলার মূল রহস্য উৎঘাটন করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে জেলা গোয়েন্দা শাখা প্রযুক্তি ব্যবহার করে টানা ২৪ ঘন্টার মধ্যে নিরলসভাবে বগুড়া, জয়পুরহাট, নওগাঁ সদর, মহাদেবপুর থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সাথে জড়িত ০৪ (চার) জন কুখ্যাত ডাকাতকে গ্রেফতার সহ লুষ্ঠিত আলামত উদ্ধার করা হয় ।
আসামীদের নাম ও ঠিকানাঃ
১। মোঃ গোলাম মোস্তফা শ্যামল (৫৫), পিতা- মৃত আবু তালেব, সাং- দোগাছী (দক্ষিনপাড়া), থানা- নওগাঁ সদর, জেলা- নওগাঁ।
আসামী মোঃ গোলাম মোস্তফা (শ্যামল’কে নওগাঁ সদর থানাধীন একটি বিলের মধ্যে টং ঘর থেকে গ্রেফতার করা হয় এবং উক্ত টং ঘর থেকে ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত একটি হাসুয়া, একটি ধারালো চাকু, একটি হাতুড়ি, একটি প্লাস, একটি টর্চ লাইট, একটি কেচি, একটি হাত দা, কিছু লাইলোন রশি, রাস্তায় বেরিকেট দেওয়ার লম্বা মোটা রশি, ভিকটিমের ব্যবহৃত একটি কাঠের পুতির গলার মালা, একটি নীল রংয়ের হাফ প্যান্ট (যা ডাকাতি করার সময় পরিধান করেছিল) ও একটি কালো মাস্ক উদ্ধার করা হয়।
২। মোঃ আবু তাহের (৫০), পিতা- মৃত কালু মন্ডল,
৩। কামাল হোসেন (২৩), পিতা- মোঃ আবু তাহের, উভয় সাং- খোট্টাপাড়া, থানা- সাপাহার, জেলা- নওগাঁ।
মোঃ আবু তাহের ও কামাল হোসেন তারা বাবা ও ছেলে। তারা একসঙ্গে এই ডাকাতি কাজে অংশগ্রহণ করেন। তাদের বাড়ি সাপাহার তারা ঘটনা ঘটিয়ে নওগাঁ সদরে তাদের এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। সেখান থেকে তাদের গ্রেফতার করে আসামী তাহের এবং কামালের হেফাজত হতে ভিকটিমদের ডাকাতি হওয়া একটি স্মার্ট ফোন ও একটি বাটন ফোন, দুইটি কালো মাস্ক (যা ডাকাতি করার সময় মাস্ক পরিধান করেছিল) উদ্ধার করা হয়।
৪। মোঃ মোস্তাক আহমেদ জাহিদুল (৪৬), পিতা- মৃত কফিল উদ্দিন চৌকিদার, সাং- শিবরামপুর, থানা- মহাদেবপুর, জেলা-নওগাঁ।
আসামী মোস্তাক আহমেদ হেজাহিদুল এর পৈত্রিক বাড়ি জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি থানা এলাকায়। সে প্রায় ২০ বছর যাবৎ মহাদেবপুর থানার শিবরামপুর গ্রামে দ্বিতীয় বিয়ে করে বিলের মধ্যে বসবাস করে। সে অপর একটি ডাকাতি মামলায় পাঁচ বছর জেল হাজত খেটে ৫/৬ মাস পূর্বে বের হয়। তার বাড়ি থেকে একটি রেজিঃ বিহীন ডিসকভার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। মোটরসাইকেলটি কার তা যাচাই-বাচাই করার জন্য জব্দ করা হয়।
আসামীদের মামলার সংখ্যাঃ
আসামী মোঃ গোলাম মোস্তফা হেশ্যামল এর নামে মাদক ও দ্রুত বিচার আইনের ০২ (দুই) টি মামলা আছে।
আসামী মোঃ আবু তাহের এর নামে চুরি, ডাকাতি সহ ০৫ (পাঁচ) টি মামলা আছে।
আসামী কামাল হোসেন এর নামে ০৩ (তিন) টি চুরি মামলা আছে।
আসামী মোস্তাক আহমেদ জাহিদুল এর নামে চুরি, ডাকাতি, ডাকাতির প্রস্তুতি সহ মোট ০৮ (আট) টি মামলা আছে।
এ প্রসঙ্গে জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন নওগাঁ জেলা পুলিশ যেকোন মূল্যে সড়কে দস্যুতা এবং ডাকাতি সহ যে কোন অপরাধ দমন করতে বদ্ধপরিকর। ডাকাতিতে জড়িত অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে।