বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে আন্তজেলা গরু ডাকাত চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার চাঁপাইনবাবগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন রূপগঞ্জে ৫০০ রোগীর মুখে হাসি, বিনামূল্যে চক্ষু ও ডায়াবেটিস সেবা নাচোল থানায় বৃক্ষ রোপণ করেন–পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস  গোমস্তাপুরে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন ও প্রজেক্টরে প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রদর্শন​ কওমি মাদরাসা নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদ, নিরপেক্ষ তদন্তে সত্য উদঘাটনের আহ্বান সৈয়দ শিব্বির আহমদ ( শিবলী)  সৈয়দ মাহদী আলিয়া মাদ্রাসায় মেধাবীদের মাঝে নগদ বৃত্তি বিতরণ চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাসব্যাপী ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলা শুরু ​রূপগঞ্জে বিনামূল্যে চক্ষু ও ডায়াবেটিস সেবা পেলেন ৫০০ রোগী স্কুল শিক্ষক মাসুদ রানার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ

নিয়মের বাইরে অফিস সংস্কৃতি: মৌলভীবাজারে সময়ানুবর্তিতার সংকট

  • প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১০৪ বার পড়া হয়েছে
206

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে দেরিতে উপস্থিতি, আগেভাগে প্রস্থান—সেবাপ্রাপ্তিতে ভোগান্তি বাড়ছে সাধারণ মানুষের

মৌলভীবাজারে সরকারি দপ্তরগুলোর কার্যক্রমে সময়ানুবর্তিতার অভাব দিন দিন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সরকারের কঠোর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিত সময় সকাল ৯টায় অধিকাংশ অফিসে কার্যক্রম শুরু হচ্ছে না—এমন অভিযোগ এখন প্রায় নিয়মিত। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের শৈথিল্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা জনসেবার মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, নির্ধারিত সময়ের পরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দরজা বন্ধ থাকে কিংবা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনুপস্থিত থাকেন। সকাল ৯টা পেরিয়ে গেলেও জেলা অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিস, এসএএস সুপারিনটেনডেন্টের কার্যালয়সহ কয়েকটি অফিসে তালাবদ্ধ অবস্থা লক্ষ্য করা যায়। একই সময়ে বিআরটিএ অফিসে তালা খোলা থাকলেও দায়িত্বশীল কেউ উপস্থিত ছিলেন না।

খাদ্য বিভাগের একাধিক দপ্তরেও একই চিত্র দেখা গেছে। নির্দিষ্ট সময়ের অনেক পরে গিয়েও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাওয়া যায়নি। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, জাতীয় মহিলা সংস্থার অফিসসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে সকাল গড়িয়েও কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় সেবা নিতে আসা মানুষদের অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে দীর্ঘ সময়।

বিশেষকরে…
এদিকে এলজিইডি অফিসে গিয়ে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীকে পাওয়া যায়নি। অফিসের এক কর্মচারীর ভাষ্যমতে, তিনি তখনও বাসায় ছিলেন। এমন উদাহরণ জেলার বিভিন্ন দপ্তরেই পাওয়া গেছে, যা সময়ানুবর্তিতার প্রতি উদাসীনতার চিত্রকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।
একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, কিছু দপ্তর প্রধান সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিন ছাড়া নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকেন না। কেউ কেউ সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়েই ব্যক্তিগত কারণে কর্মস্থল ত্যাগ করেন। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি কমে যায় এবং সাধারণ মানুষ সেবা পেতে হয়রানির শিকার হন।

এ ধরনের অনিয়ম শুধু অফিস সময়েই সীমাবদ্ধ নয়; অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্ধারিত সময়ের আগেই অফিস ত্যাগ করেন। বিষয়টি জানতে চাইলে নানা অজুহাত তুলে ধরা হয়, যা কার্যত দায় এড়ানোর প্রবণতাকেই নির্দেশ করে।

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল জানান, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন সমন্বয় সভায় এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে এবং নিয়মিত দেরিতে আসা বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত না হলে উন্নয়ন কার্যক্রম যেমন ব্যাহত হয়, তেমনি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সময়মতো অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিত করা শুধু একটি নিয়ম নয়—এটি জনসেবার প্রতি দায়বদ্ধতার মৌলিক অংশ।

মৌলভীবাজারের এই চিত্র সাময়িক অবহেলার ফল, নাকি দীর্ঘদিনের অভ্যাস—তা এখন খতিয়ে দেখা জরুরি। কারণ, দায়িত্বে অবহেলা যখন নিয়মে পরিণত হয়, তখন তার প্রভাব পড়ে পুরো প্রশাসনিক কাঠামোর ওপরই।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews