বুলবুল আহম্মেদ ( বুলু) বদলগাছী নওগাঁ প্রতিনিধিঃ
আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর বদলগাছী উপজেলায় মরিচের ফলন ভালো হয়েছে।
আর ফলন ভাল হওয়ায় নওগাঁর বদলগাছীর হাট-বাজারে কাঁচা মরিচের সরবরাহ বেড়েছে। তবে দাম নিম্নমুখী হওয়ায় উৎপাদন খরচই উঠছে না। লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষিদের। কাঁচা মরিচ পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে প্রকারভেদে ৩০-২৫ টাকা কেজি দরে।
উপজেলার বিভিন্ন মাঠে এখন দেখা মিলছে মরিচের ক্ষেত। সবুজ পাতার আড়ালে থোকায় থোকায় মরিচ।
স্থানীয় কৃষকরা , সাদা ও আকাশি জাতের মরিচ আবাদ করেছেন। সকাল-বিকেল ক্ষেত থেকে মরিচ তুলে বিক্রি করছেন বিভিন্ন হাট-বাজারে।
উপজেলার ভান্ডারপুর, কোলা, গোবরচাপা সাপ্তাহিক হাটবার বৃহস্পতিবার, শুক্রবার, সোমবার এবং শনিবার কৃষকরা ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে এ হাটে মরিচ বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন।
পাইকার ও কৃষকদের
দরকষাকষিতে চলে বেচাকেনা। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০-০৫ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে প্রকারভেদে ১৫-২০ টাকা কেজি। এই দামে মরিচ বিক্রি করে উৎপাদন খরচ উঠছে না বলে জানান চাষিরা।
স্থানীয় পাইকারেরা বলেন চাহিদা মিটিয়ে এসব মরিচ চলে যায় দেশের বিভিন্ন জেলায়।
বদলগাছী উপজেলার আধাইপুর গ্রামের কৃষক সুনীল চন্দ্র জানান, এ বছর ১০ কাঠা জমিতে মরিচের আবাদ করেছেন। জমির চাষাবাদ, চারা রোপণ, সার ও শ্রমিকসহ যেখানে খরচ পড়েছে প্রায় ৮ হাজার টাকা। আর এ পর্যন্ত মরিচ বিক্রি করেছেন মাত্র দুই হাজার টাকা।
তিনি আরো বলেন, জমি থেকে মরিচ তুলতে শ্রমিকদের মজুরি দিতে হচ্ছে ৬-৭ টাকা কেজি দরে। আর হাটে গিয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে ২০- টাকা কেজি। সপ্তাহে জমিতে কীটনাশক দিতে হয় ৭০০টাকা। আয়ের চেয়ে ব্যয় হচ্ছে বেশি। তারপরও আশায় আছি আগামীতে ভাল দাম পাওয়ার।
একই গ্রামের কৃষক সুজন কুমার বলেন, গত বছর এ সময় প্রতি কেজি মরিচ ১২০-১৫০ টাকা দরে পাইকারি বিক্রি হয়েছে। আর এখন ১৫-২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। যেখানে আমাদের উৎপাদন খরচ পড়ছে ৩০ টাকা কেজি। হাটে গেলে ৪৩-৪৫কেজি তে মন হিসাবে বিক্রি করতে হয়। এতে লোকসান গুনতে হচ্ছে। তবে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হলে কিছুটা লাভবান হওয়া যাবে।