অনলাইন ডেস্ক
দীর্ঘ ৩৫ বছরের পুরোনো শিকল ভাঙা কি আদৌ সম্ভব? বিশেষ করে সেটি যখন নিকোটিনের নেশা। বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা আরশাদ ওয়ার্সি সম্প্রতি সবাইকে চমকে দিয়ে জানিয়েছেন, সাড়ে তিন দশকের ধূমপানের অভ্যাস তিনি মাত্র সাত দিনে ত্যাগ করেছেন। কোনো কঠিন ওষুধ বা থেরাপি নয়, বরং নিজের অবচেতন মনকে ‘রিওয়ারিং’ বা নতুন করে সাজানোর মাধ্যমেই এই অসাধ্য সাধন করেছেন তিনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম পিঙ্কভিলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা তার এই অবিশ্বাস্য পরিবর্তনের গল্প শুনিয়েছেন। আরশাদ জানান, তিনি নিজেও ভাবেননি কোনো মোবাইল অ্যাপের সাহায্যে এত দ্রুত ধূমপান ছাড়া সম্ভব।
তার ভাষায়, আমি ৩৫ বছর ধরে ধূমপান করেছি এবং ভেবেছিলাম এটি কখনোই ছাড়তে পারব না। কিন্তু মনের ভেতর থেকে আমি মরিয়া হয়ে উঠেছিলাম। শেষে একটি অ্যাপ ব্যবহার শুরু করি যা মূলত মানুষের অবচেতন মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায়। তিনি আরও যোগ করেন, অ্যাপটি তার মস্তিষ্কের পুরোনো সংকেতগুলোকে বদলে দিয়েছে। যেমন চা খাওয়ার পর সিগারেটের যে প্রবল ইচ্ছা জাগত, সেই ইচ্ছাটিকেই মন থেকে মুছে দিয়েছে এই পদ্ধতি।
এই প্রক্রিয়ার সপ্তম দিনে অ্যাপটি তাকে শেষ সিগারেট খাওয়ার নির্দেশ দেয়। আরশাদ জানান, সেই সময় তার কাছে পুরো এক প্যাকেট সিগারেট ছিল এবং তিনি নিশ্চিত ছিলেন যে এই পদ্ধতি কাজ করবে না। তবু তিনি শেষ সিগারেটটি খেয়ে বাকি প্যাকেটটি ফেলে দেন। মিরাকেলের মতো কাজ শুরু হয় এরপর থেকেই।
অভিনেতা বলেন, সিগারেট ছাড়ার ঠিক দুই দিন পর আমার বাড়িতে একটি পার্টি ছিল। সেখানে সবাই ধূমপান করছিল, কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো আমার মধ্যে বিন্দুমাত্র কোনো ইচ্ছা বা অস্বস্তি জাগেনি। কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই তিনি এখন সম্পূর্ণ ধূমপানমুক্ত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অবচেতন মনের এই রিওয়ারিং পদ্ধতি মূলত মানুষের গভীরে গেঁথে থাকা নেতিবাচক আচরণ বা অভ্যাসকে বদলে দেয়। পুনরাবৃত্তি, কল্পনা এবং মানসিক স্থিরতার মাধ্যমে মস্তিষ্কে নতুন নিউরাল পাথওয়ে তৈরি করা হয়। ফলে মানুষ স্বয়ংক্রিয় প্রতিক্রিয়ার বদলে সচেতন ও ইতিবাচক সিদ্ধান্তের দিকে এগিয়ে যায়। আরশাদ ওয়ার্সির এই অভিজ্ঞতা এখন অনেক আসক্ত ব্যক্তির কাছেই অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস