ফিরোজ আলম, নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌর বাজারে গর্ভবতী গাভী এবং অসুস্থ ও রোগাক্রান্ত গরু জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় কেশরহাট যাত্রী ছাউনির সামনে বন্ধু মহল ট্রাস্ট ও কেশরহাটের সচেতন নাগরিকদের আয়োজনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা গর্ভবতী গরু হত্যা ও রোগাক্রান্ত পশুর মাংস বিক্রির মতো অমানবিক ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান। বক্তারা বলেন, এ ধরনের অপরাধ কেশরহাট বাজারের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে এবং সাধারণ মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ হুমকি সৃষ্টি করছে।
সাম্প্রতিক এক ঘটনায় স্থানীয়দের ক্ষোভ আরও বেড়েছে। এলাকাবাসীর তথ্যমতে, গত ১৩ জানুয়ারি সকালে কেশরহাট বাজারসংলগ্ন ভাগাড়ে একটি মৃত গরুর বাছুরের লাশ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, গর্ভবতী গাভী জবাইয়ের পর বাছুরটি সেখানে ফেলে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, বাছুরটির লাশটি প্রায় এক সপ্তাহ পুরনো ছিল।
অভিযোগ রয়েছে, কোনো ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা প্রাণিসম্পদ বিভাগের ছাড়পত্র ছাড়াই এসব গরু জবাই করা হচ্ছে। কসাই মুকুল, কাদের ও বাচ্চুর বিরুদ্ধে আগেও ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজসহ বিভিন্ন রোগাক্রান্ত গরু জবাইয়ের অভিযোগ উঠেছিল। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র রাতের আঁধারে গোপনে এসব কাজ করে আসছে, যার সঙ্গে বাজার এলাকার ভেতরের কিছু অসাধু ব্যক্তি জড়িত।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, রোগাক্রান্ত গরুর মাংস স্থানীয় বিভিন্ন হোটেলে বিক্রি করা হচ্ছে এবং কালাভুনা, মাংসের ঝোলসহ বিভিন্ন খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ অজান্তেই ঝুঁকিপূর্ণ ও বিষাক্ত খাবার গ্রহণ করছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
বক্তারা "প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন দৃশ্যমান কোন কার্যকারী পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন" তারা বলেন, মাঝে মাঝে হোটেলে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হলেও মূল অভিযুক্ত কসাইরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের নীরবতা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। থানা ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা তদন্তের আশ্বাস দিলেও ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ করেন তারা।
মানববন্ধন থেকে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, জবাইয়ের আগে বাধ্যতামূলক ভেটেরিনারি পরীক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং প্রতারণা ও জালিয়াতি বন্ধে কঠোর নজরদারির দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে বন্ধু মহল ট্রাস্টের সভাপতি বাচ্চু রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ওসমান আলী, সম্রাট, রাইসুল ইসলাম রাসেল, শাহিন, সুইট, মিনহাজ, হালিম, খালেকসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সচেতন নাগরিকরা।