ফিরোজ আলম, নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী জেলার মোহনপুর উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে দুষ্কৃতিকারীদের ছুরিকাঘাতে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (২২ মার্চ ২০২৬) বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে উপজেলার মৌগাছি ইউনিয়নের বেড়াবাড়ী দিঘির মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জেরে দুষ্কৃতিকারীরা সাব্বির হোসেন (২১) নামের ওই যুবকের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এর জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সন্ধ্যা ৭ টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পেশায় তিনি স্থানীয় বাজারে সবজি ও মুদি মালের ব্যবসা করতেন। নিহত সাব্বিরের পিতার নাম আলমগীর, তার বাড়ি মোহনপুর উপজেলার বেড়াবাড়ী এলাকায়।
পুলিশ ও নিহতের পারিবার সূত্রে জানাগেছে এ ঘটনায় নিহতের মা মোছা. সাবিনা বেগম বাদী হয়ে সোমবার মোহনপুর থানায় ৩ জনার নাম উল্লেখ করে ও ৬-৭ অজ্ঞাতনামা আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, মোহনপুর থানার মামলা নং-১৪; তারিখ: ২৩-০৩-২০২৬ ইং।
মামলায় বেড়াবাড়ী এলাকার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় বিএনপি নেতা আবুল হোসেন খাঁনের ছেলে মঞ্জুর হোসেন খান (৩৮), একই গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে তাসমীর আহম্মেদ রুম্মান (২৯), খয়রা দক্ষিণপাড়া গ্রামের সাদেক আলী সরদারের ছেলে নাজমুল হোসেন সোহান (২৮) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ৩০২/৩৪ ধারায় রুজু করা হয়েছে।
এদিকে, সোমবার (২৩ মার্চ) বিকেল সময়ে জেলা ডিবি পুলিশের সহায়তায় মোহনপুর থানা পুলিশ উপজেলার বিদিরপুর ফকিরপাড়া হতে প্রধান আসামি মুন্জুর হোসেনকে গ্রেফতার করেছে।
এ বিষয়ে মোহনপুর থানা পুলিশের সেকেন্ড অফিসার এসআই মেদাচ্ছের হোসেন খান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা রুজু করা হয়েছে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল এলাকায় যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল বর্তমানে এখন তা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
প্রধান আসামি মঞ্জুর হোসেন খান গ্রেফতার করা হয়েছে, বাকি আসামিদের গ্রেফতারে জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রাজশাহী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) হেলেনা আকতার নিকট ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, খবর পাওয়ার পরে রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি,
এ বিষয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে এবং প্রধান আসামি মঞ্জুর হোসেন খান গ্রেফতার করা হয়েছে,
এ ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রধান আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে জন্য রিমান্ড চাওয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন
প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য ও অন্যান্য আসামিদেরকে গ্রেফতারে'র জন্য বিজ্ঞ আদালতের নিকট পুলিশের পক্ষ থেকে রিমান্ড চাওয়া হবে বলে জানান এ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।