মো:সামিরুল ইসলাম:চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর পৌরসভা ‘ক’ শ্রেণির একটি পৌর সভা। এর মধ্যে ৭ নং ওয়ার্ডের পুরাতন প্রসাদপুর হঠাৎপাড়া এলাকার প্রায় ৫০টি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে একটি চলাচলের রাস্তার অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছিল। বহু নেতা ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও যখন কোনো আশ্বস্ত মিলছিল না, তখন এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের সেই দুর্ভোগ নিজের অর্থায়নে দূর করে অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন রহনপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা আশরাফুল হক। তাঁর এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে বর্তমানে এলাকাবাসীর মাঝে বইছে আনন্দের বন্যা এবং চারদিকে চলছে তাঁর প্রশংসার জোয়ার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাস্তা না থাকায় এতদিন এই এলাকার কোমলমতি স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন কাদা-পানি মাড়িয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে হতো। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে তাদের এই দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যেত। এলাকার কেউ হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে কিংবা মারা গেলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া বা দাফনের জন্য কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া ছিল পাহাড়সম কষ্টের। সেখানে অ্যাম্বুলেন্স তো দূরের কথা, একটি ভ্যান প্রবেশেরও কোনো উপায় ছিল না।
এছাড়া এখানকার অধিকাংশ মানুষ ভ্যান বা সিএনজি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু চলাচলের উপযোগী রাস্তা না থাকায় তারা তাদের উপার্জনের একমাত্র মাধ্যমটি বাড়িতে নিরাপদে রাখতে পারতেন না। বাধ্য হয়ে অনেক দূরে পাকা রাস্তার ওপর ঝুঁকিপূর্ণভাবে গাড়িগুলো রেখে আসতে হতো তাদের।
ছিল শুধুই আশ্বাস, মেলেনি দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত কয়েক বছরে রহনপুর পৌরসভা থেকে একাধিকবার এই রাস্তাটির ‘মাপ-জোক’ করা হয়েছে। লাল ফিতা বা চুন দিয়ে দাগ দেওয়া পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল সব কার্যক্রম। মাপজোখের পর আর কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছিল।
এলাকার এই দুরবস্থার কথা জানতে পেরে এগিয়ে আসেন রহনপুর পৌরসভার গর্বিত সন্তান, সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা আশরাফুল হক। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বিষয়টি জানানোর সাথে সাথেই তিনি কালবিলম্ব না করে নিজস্ব অর্থায়নে রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করে তোলার উদ্যোগ নেন। তাঁর এই মহতী পদক্ষেপে অবশেষে অবসান হলো ওই ৫০টি পরিবারের দীর্ঘদিনের বন্দিদশা ও যাতায়াত দুর্ভোগের।
এই বিষয়ে বাসিন্দারা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন—
"আমাদের এই দুর্ভোগের কথা দীর্ঘদিন ধরে কেউ শুনেনি। বর্ষাকালে আমাদের কষ্টের সীমা থাকত না। সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুসমান পানি জমে যেত, আর অসুস্থ রোগীকে কাঁধে বা খাটিয়ায় করে মূল রাস্তায় নিয়ে যেতে হতো।কেউ বলেন আমাদের ভাই আবার কেউ বলেন, আমাদের সন্তানতুল্য নেতা আশরাফুল হক নিজ অর্থায়নে রাস্তাটি নির্মাণ করে দিয়ে আমাদের এলাকার মানুষের বহুদিনের একটি বড় সমস্যার সমাধান করেছেন। আমরা তাঁর এই মহতী উদ্যোগের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই এবং তাঁর দীর্ঘায়ু ও সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করি। রহনপুর পৌরবাসীর উন্নয়নে এ রকম জনবান্ধব ও মানবিক নেতাই আমাদের কাম্য।"