ইমান আলী, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা
ঢাকা, সোমবার ২৭ এপ্রিল ২০২৬—
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় এক্টিভিস্ট আব্দুল্লাহিল বাকী। বিশেষ করে শাহবাগ থানায় সংঘটিত একটি ঘটনায় ছাত্রদল ও এনসিপিসহ বড় সংগঠনগুলোর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
তার বক্তব্যে উঠে আসে, আলোচিত একটি ঘটনার পরও বড় কোনো ছাত্র সংগঠন থেকে দৃশ্যমান প্রতিবাদ বা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না আসা বিস্ময়কর। বিষয়টি নিয়ে সংগঠনগুলোর অবস্থান ও দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ছাত্র রাজনীতিতে পারস্পরিক দূরত্ব, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও পূর্বের অভিজ্ঞতা অনেক ক্ষেত্রে যৌথ প্রতিক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাতেও অনেক সংগঠন নিরব ভূমিকা পালন করছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি লেখেন—
শাহবাগ থানায় শিবির ও ডাকসু নেতাদের উপর যে হামলা হলো, কোনো বড় ছাত্র সংগঠনকে দেখেছেন কোনো প্রতিবাদলিপি কিংবা কোনো বিবৃতি দিতে? আমার চোখে পড়েনি এখনো। অথবা ছোট কোনো সংগঠনও দিয়েছে? শাহবাগে যেটা ঘটলো এটা কিন্তু ছোট-খাটো কোনো ঘটনা নয়, বেশ আলোচিতই বলা যায়।
কেন কোনো ছাত্র সংগঠন বা কোনো দল বিবৃতিটুকু পর্যন্ত দিতে আগ্রহী হয়নি শিবিরের জন্য, এটা কি তারা ভেবে দেখেছে নাকি নিজেদের অহংকার নিয়েই গো ধরে আছে!
ঢাবি ক্যাম্পাসে ছোট কোনো ঘটনাতেও অন্তত ৩-৪ টা সংগঠন বিবৃতি দেয়াটা একেবারেই নর্মাল।
কিন্তু শিবিরের পক্ষে কোনো সংগঠন বিবৃতি দেয়নি। ইভেন জামায়াতের জোট মিত্র এনসিপি কিংবা ছাত্রশক্তিও তেমন আগ্রহী হয়নি পূর্বের তিক্ত অভিজ্ঞতার জন্য।
কারণে অকারণে সবাইকে শত্রু বানানোর প্রজেক্ট হাতে নিলে যেটা হয় সেটাই ঘটেছে। একমাত্র আমরাই সঠিক, বাকি সবাই গাদ্দার, ধোকাবাজ, মোনাফিক ব্লা ব্লা.... এই টাইপের নীতি গ্রহণ করে বন্ধুহীন পথচলা কতোটা মসৃণ হয় সেটা যারা বুঝার তারা ঠিকই বুঝবে।
শাহবাগে সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনাটুকু যদি না ঘটতো, আমার মনে হয় না কেউ এই রিলেটেড ঘটনা নিয়ে তেমন রিএক্ট করতো! সাংবাদিকদের উপরে হা*মলা হওয়াতে পুরো বিষয়টা জনপরিসরে আলোচিত হয়েছে। নতুবা এতটুকুও হতো না নিজেদের গন্ডির বাইরে গিয়ে।
সবাইকে শত্রু বানানোর প্রজেক্ট লং রানে বিপদই ডেকে আনে। সরকার আরেকটু স্ট্রং পজিশনে গেলে কেউ বিপদে পড়লে অপরাপর মিত্ররাই পাশে থাকে। সেটা পেতে গেলে সবার আগে 'সবাইকে শত্রু' বানানোর প্রজেক্ট অফ করতে হবে।
ভালো বা খারাপ কিছু বললে কিংবা ন্যূনতম সমালোচনা করলেও যেভাবে পঙ্গপালের মতো কমেন্টবক্সে ঝাঁপিয়ে পড়ে, খুবি দৃষ্টিকটু। আর এর থেকে বেশি কিছু বললে শুরু করে দককিন দককিন... ভাই মনে হয় দককিন নিয়েই লিখছে! কি লেইমরে ভাই, মানুষের জীবনে এক দককিন ছাড়া আর কোনো কিছু নেই? হাসি আসে কিছু মানুষের কথা শুনলে।
যাইহোক, সর্বশত্রু হয়ে থাকা যাদের নেশা, তাদের জন্য রইলো শুভকামনা।