নিজস্ব প্রতিবেদক
চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিন উপজেলায় বজ্রপাতে তিন নারীসহ পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলাতেই মারা গেছেন তিনজন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকালে বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে মারা যান তারা। সংশ্লিষ্ট থানার ওসিরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মৃত ব্যক্তিরা হলেন সদর উপজেলার আতাহার এলাকার রাব্বিলের ছেলে আব্দুল্লাহ (১৪), শিবগঞ্জ উপজেলার চককীর্তি ইউনিয়নের চক নরেন্দ্র গ্রামের আব্দুর রউফের স্ত্রী মাহমুদা বেগম (১৯), একই ইউনিয়নের রানীবাগি বাজারপাড়ার কাশেম আলীর মেয়ে সাহিদা খাতুন (১৬) এবং মোবারকপুর ইউনিয়নের শিকারপুর দক্ষিণপাড়ার ফিটু আলী ছেলে মো. মেসবাউল (১৪) এবং নাচোল উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের গোসাইপুর গ্রামের বাসিন্দা মো: শাফিউল এর ছেলে হাসান আলি লালু (২১) এবং একই উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের লাহাপড়া গ্রামের আব্দুর রাকিবের স্ত্রী সুমি আরা (৪০)।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান বলেন, ‘শিবগঞ্জের তিনজনই মারা গেছের বাড়ি সংলগ্ন আম বাগানে। বৃষ্টির মধ্যে বাগানে আম কুড়াতে গিয়ে মারা যান তারা।’
নিহত তিন পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থ সহায়তা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান।
এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন বলেন, ‘সদর উপজেলার আতাহারে বৃষ্টির মধ্যে মাঠে গরু আনতে যায় আব্দুল্লাহ। এ সময় বজ্রপাত হলে গুরুতর আহত হয় সে। স্থানীরা তাকে দ্রুত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’
অন্যদিকে নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ জানান, একই সময় নাচোল উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের একটি মাঠ থেকে ঘাস কেটে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে সুমি আরা মারা যান। এ ঘটনায় তার স্বামী আব্দুর রাকিব আহত হন।
এবং বিকেলে হঠাৎ ঝড়ো বৃষ্টি শুরু হলে নেজামপুর ইউনিয়নে হাসান আলি লালু সহ অনেকেই বাগানে আম কুড়াতে যায় এ সময় আকস্মিক বজ্রপাত শুরু হলে অন্যরা নিরাপদস্থানে চলে যায় এবং হাসান আলি লালু আম গাছের নিচে আশ্রয় নেয়। এসময় সে বজ্রাঘাতে গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যু বরণ করেন সঙ্গে থাকা তার মোবাইল ফোনটিও পুড়ে যায়।
পরে তাকে উদ্ধার করে নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সদর ও নাচোল উপজেলায় মৃতদের পরিবারকেও ২৫ হাজার টাকা করে অর্থ সহায়তা দেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।